মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১

ছোটগল্প : ওটি

 "সার্জারীতে ওটিরে প্রধান ধরলে, এটা পরিবেশনমূলক এবং চিত্রনির্ভর আর্টআর্টিস্ট এখানে সার্জনপরিবেশনমূলক আর্ট বইলাই, ওটির ফুলফর্ম অপারেশান থিয়েটার

মেডিসিন এমনে ভাবলে আখ্যানমূলক আর্টভাষা নির্ভরফিজিশিয়ান এখানে কবি।"

- (ওয়ার্ডবয় তরিকুল)  


যজ্ঞ আজ। তিনি সজাগ। ঘুম পাড়ানো দরকার। লোকটা কই। ঘুম পাড়ায় যে। আসতেছে না।

 আরেকটা আছে। অয় কাটে। দেখি আসছে। ঘাঁটাঘাঁটি করে। নার্সরে ডাক দেয়। কাকে জানি বলে আবার। কি সব। কি সব। এখন চাইতেছে। সিরিঞ্জ নিছে। সাদা সাদাটা ঢুকাইল। দুধের মত। কাইল্লা লোকটা হাসছে। কয়, স্যার। স্যার। তখন চিল্লায়। ক্যা ক্যা কইরা কয়। কিসব কথা। আমিই দেব। আমিই দেব। কোন বেপার। এই মিয়া। এনাসতেশিয়া কি লাগে। সব বারা প্রপোফল। কি যে কয় ওগুলা। ব্লেড ঘাটতেছে। হুদাই। ব্লেড মারায়। কারে কারে কি জিগাইল। দেশের বাড়ি কই। আবার কইল কারে। এমনি। আবার ব্লেড নিল। কি করতাছে। এখন আবার নার্সের হাত ধরছে। পরে বলতেছে লাগা। স্যালাইন চায়। এখন একটা মাইয়া। কারে কইল আবার। জিগাইল দেশের বাড়ি কই। বলছে ও আচ্ছা। না, না থ্যাঙ্কিউ। তোমার আব্বুকে আমি চিনি। বসতেছে। কি জানি চিল্লাইল। পার্ট লইল। মাইয়াটারে দেখাইতাছে। লোকটা লম্বা আছে। আবার ঘাঁটতেছে। ট্রেতে আওয়াজ। টুং টুং ঝিং ঝং টুং ঝিং। ফোন ধরতাছে। বলল, দুটা পিজা আনাও। একটা চিকেন ক্যাষু নাট। আর ড্রিংক্স আনবা সব এরামের। পরে কে কি কয়। অয় চিল্লায়। বন্ধ! অয় চুতমারানি বন্দ ক্যা? ডেরগোন যা। হাউয়ার নাতি। অয় খালি চিল্লায়। কাইল্লা লোকটা হাসতেছে। ক্যাডা সজিব বাই নি। তখন যে লোকটা ঘুমাইব ও উইঠা বসতে যায়। কাইল্লায় গিয়ে ধরে। আবার শুইয়া যায়। মাইয়া হাসতেছে। অয়ও। ফোন ফালায় দেয়। টেবিলের উপর পড়ল। শব্দ হয় এমনে। চকচকা একটা ফোন। চারকোনা। এই তোমার আব্বুরে কইও না। মাইয়ায় কি কয়। কিচ কিচ কইরা। পরে জিগায়। অয়। কয় যে কোন ব্যাচ। কয় মা। মাইয়া কি জানি কয়। ইংলিশে। শিকশ। আর ঐদিকে কাইল্লায়ও। মাথা নাড়ে। বুচ্ছে কি জানি। হ হ কইরা একটু চিল্লান দিয়া কয় ইন্টার্ন ইন্টার্ন। পরে জানি আইল। গেলগা। ফোন বাজতেছে। ধরছি। কাইল্লায় চিল্লায়। অই বাইরে যা। আদব শেখো নাই তোমরা কিছু। ফোন পইড়া যায়। টোকাইতে লইছি। একবার দেখছি। নীচা থেইকা। পরে আবার তাকাইছি। আবার দেখছি। সবাই তাকাইতেছে। আহা এমন করো কেন। ফোন টোকাইছি। দাড়াইছি। এ্যাই এদিকে আসো। তোমার দেশের বাড়ি কই?

 “ স্যার আমার নাম সালেহ মুহাম্মাদ, আজকে জয়েন করলাম স্যার। দেশের বাড়ি নেই স্যার। আমি ঢাকাতেই। স্যার আয় এ্যাম আ বিগ ফ্যান ওয় ইয়োর ওয়ার্ক স্যার, অনেক দিন ধরেই আপনার ওটিতে আসার একটা ইচ্ছা ছিল স্যার ট্রুলি আপনি একজন আর্টিস্ট-- ”

মাইয়াই কি কয়। কিচ কিচ আওয়াজ। ইংলিশ। কে জানি আসে। দরজা গুলা বড় বড়। জাহাজের মত। জানি এমনই হয় দরজা। মানে জাহাজের। কি জানি কইল্। কি সব কথা। ফালতু ফালতু। অয় কয়, কি জিজেষ করল এই মেয়েটা তোমাকে। আবার কাইল্লায়ও কয়। হ্যা হ্যা কইরা। কয় নেশা মেশা। মদ গাঁজা। একটা বাতাস আছে। দরজা খুইলা বন্ধ হয়। এমন। জানি সমুদ্রের বাতাস। কাইল্লা কয় মাঠের পার। অয় হাসে। মাইয়াও। কয় কোন ব্যাচ।

স্যার আমি আপনাদের এখানকার ছাত্র না। আগের কলেজে ছিলাম পরে ওখান থেকে বের করে দিল। আমি আপনাদের দুই নম্বর ব্যাচ করেসপন্ডিং।

টুং টাং আওয়াজ হয়। মাস্তুলের লগে কি জানি বান্ধা। ছোট ছোট কাঁচের। পাথরের। লাল , সবুজ আর বেগুনী। আবার সুতা দিয়া বান্ধা। টু জিরো নাইলন। তাহে বাতাস লাগে। খালাসি ছিলাম। সমুদ্র অন্যরকম ছিল। কম বয়সে। সমুদ্রও বয়স কম। অনেক নীল। তখন দেখতাম। লবণের ঘ্রাণ। সাথে কাঁচামরিচ আর লেবু। বাতাসের ভিতরে ঝাঁঝ। মদের মত গন্ধ। স্পিরিট ঢালতেছে কাইল্লায়। টুং টাং। মাইয়াই নাড়তেছে। কি জানি সব। ছোট ছোট শিশি। ভিতরে পানি। শিশিগুলার রঙ সাদা। আবার লাল। কোনটা গাঢ় বাদামী। মাইয়ার হাতে চুরি। টুং টাং করতেছে।


~ বরাহশোদনে - বিস্ট্যালিটি ~

হে ছোট শূকর জেনো তোমায় খেতে মানা, মারতে মানা নেই সেই মহাজাগতিক মের্সেনারি তাই একশো বছর পথ হেটে এসেছে একেলা ডেসপারেট দুপুর রাত্রে পালিয়ে সে ভ...