চমস্কি এবং পলিন : কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠার জন্য ভিন্নতর পৃথিবীর কল্পনা করতে হবে আমাদের।
লিখেছেন সি জে পলিখ্রনিয়ু - ১৪ এপ্রিল ২০২০
এই মহামারি থেকে কি শিখতে পারি আমরা? অনাগত দিনগুলির মোকাবেলায় আমাদের সমাজ কিভাবে সংগঠিত হবে? প্রশ্নগুলির একটি বিহিত করার চেষ্টা করেছেন নোয়াম চমস্কি এবং রবার্ট পলিন।
বিশ্বের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছে কোভিড-১৯। প্রায় কোনই প্রস্তুতি ছিল না আমাদের। ধারণা করা হচ্ছে এই মহামারির অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিণতি হবে ঐতিহাসিক। যদিও সাম্প্রতিক কালে, গ্রুপ অফ টুয়েন্টি’র (জি টুয়েন্টি) প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলির নেতারা অঙ্গীকার করেছেন অর্থনীতিকে সুস্থ করার জন্য বিশ্ব-অর্থনীতির শরীরে তারা পাঁচ ট্রিলিয়ান মার্কিন ডলার অন্তঃক্ষেপ করবেন।
কিন্তু এই মহামারি থেকে আমাদের শিক্ষা কি? করোনা ভাইরাস সংকটটি কি আমাদের সমাজ গঠনের নতুন কোন পথ দেখাবে? এমন সমাজ যার সামাজিক এবং রাজনৈতিক নিয়মগুলি মানুষের জন্য। ব্যাবসায়ীদের মুনাফার জন্য নয়।
এই সাক্ষাৎকারে মনীষী বুদ্ধিজীবি চমস্কি এবং অর্থনীতিবিদ রবার্ট পলিন আমাদের প্রশ্নগুলির কিছু উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছেন।
সি জে পলিখ্রনিয়ু : নোয়াম, আপনার কাছে জানতে চাই এই করোনা ভাইরাস জনিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংকটের অন্তর্নিহিত কি কি শিক্ষাকে আমরা গ্রহণ করতে পারি?
নোয়াম চমস্কি : বিজ্ঞানীরা তো বহুদিন ধরেই মহামারির কথা বলে আসছেন। বিশেষ করে ২০০৩ সালের সার্সের সময় থেকেই। কোভিড-১৯ ধরণের একটা করোনা ভাইরাস দিয়েই কিন্তু ঐ ঝামেলাটা হয়েছিল। পরে যে আরও মহামারি আসবে, আরও ভয়ংকর সব দুর্যোগ, সেটিও বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যদ্বানী করেছেন। পরেরগুলি যদি আমরা ঠেকাতে চাই, তো বর্তমানেরটা কিভাবে ঘটল সেটি বুঝতেই হয়। এবারে ভুল যা হয়েছে সেসব তো শুধরাতে হবে। এই দুর্যোগের বিভিন্ন পর্যায় থেকেই শিক্ষা নেয়ার আছে। বিপর্যয়ের একদম উৎস মূল বোঝা দরকার। তারপর প্রত্যেকটি দেশই কিছু কিছু বিশেষ সমস্যায় পড়েছে, সেগুলিও নিয়েও চিন্তা করা প্রয়োজন। আমি মনযোগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই রাখছি। যদিও তাতে কিছু ভুল হয়। কারণ করোনা মোকাবেলায় এই দেশের যোগ্যতা একদম তলানিতে।
প্রাথমিক বিষয়গুলি যথেষ্ট পরিষ্কার। বাজার খুব বাজে ভাবে ব্যার্থ হয়েছিল। এই সমস্যার গোড়া ওখানেই। তার ওপর নব্য-উদারপন্থী যামানার পুঁজিবাদ একে আরও প্রকট করে তুলল। কিছু বিষয় আছে যেগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া। যেমন তাদের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার অবস্থা জঘন্য। সমাজের ভেতরে মনুষ্যত্ব প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে। সোশ্যাল-জাস্টিসের দিক থেকে ও-ই-সি-ডির তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একদম শেষ দিকে। আর ফেডেরাল সরকারের দখল নিয়েছে যে উন্মাদ বুলডোজার তার কথাই তো বলাই বাহুল্য।
সার্সের জন্য যে ভাইরাস দায়ী ছিল সেটিকে দ্রুত শনাক্ত করা গিয়েছিল। টীকা তৈরী হল। কিন্তু পরীক্ষাধীন পর্যায়ের ভেতর প্রবেশ করানো হল না। ড্রাগ কোম্পানীগুলি তেমন কোন আগ্রহ দেখালেন না। কারণ তারা তো শুধু বাজারের ভাব বুঝে কাজ করেন। যে বিপর্যয় এখনও আসেই নি, তাকে প্রতিহত করতে গিয়ে সম্পদের খরচ করে তো আর ব্যাবসায়িক মুনাফা হয় না। সার্বজনীন ব্যার্থতাটির চিত্রায়ন ছিল নাটকীয়। সংকটের সূচনালগ্নেই একটি গুরুতর বিপদ দেখা দিল : পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটার নেই। কি সাংঘাতিক ব্যার্থতা। ডাক্তার আর নার্সদের কোন উপায় ছিল না। প্রবল যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কাকে বাঁচাবেন, আর কাকে মারবেন।
ওবামা প্রশাসন এই সম্ভাব্য সমস্যাকে চিনতে পেরেছিলেন। তারা একটা ছোট কোম্পানীকে নির্দেশ দিলেন কম দামে উচ্চ মানসম্পন্ন ভেন্টিলেটার সরবরাহ করার জন্য। তো এই ছোট কোম্পানীকে ‘কোভিডিয়েন’ নামের একটি বড় কোম্পানী কিনে ফেলল। তারপর তারা এই প্রকল্প থেকে সরে গেল। কারণটা স্পষ্ট। কোভিডিয়েন নিজেরা অতি দামী ভেন্টিলেটার বিক্রী করে। ছোট কোম্পানীর পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতাটি তারা চাচ্ছেন না। তারা সরকারকে গিয়ে বললেন , তারা চুক্তি বাতিল করতে চান কারণ এখানে যথেষ্ট ব্যাবসায়িক লাভ নেই।
এদ্দূর পর্যন্ত সব সাধারণ পুঁজিবাদী যুক্তি। কিন্তু এই পর্যায়ে নব্য-উদারপন্থার ব্যাধি আরেকটি মরণ আঘাত হানল। সরকার তো চাইলে এখানে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারত। কিন্তু সেটি হতে পারল না কারণ ইতিমধ্যেই আপনাদের মাথা খেয়ে ফেলেছে রোন্যাল্ড রিগ্যানের দিয়ে যাওয়া সেই মতবাদ : সরকারই সমস্যা, সমাধান নয়। সুতরাং কিছুই করার নেই।
এখানে একটু থামা দরকার। রিগ্যানের ফর্মূলার অর্থটা একটু বুঝতে হচ্ছে। ব্যাবহারিক ক্ষেত্রে যেমন দেখতে পাচ্ছি, জনগণের কল্যাণের প্রশ্ন আসলে তখন সরকার কোন সমাধান নয়। অথচ ব্যাক্তিগত সম্পত্তি আর বড় ব্যাবসায়িক শক্তির জন্য সরকার খুব ভালোই সমাধান। রিগ্যানের অধীনেই এরকম নজিরের অভাব নেই। সেসব আর দ্বীতিয়বার যাচাই করে দেখার প্রয়োজনও হয় না। এই যে মন্ত্র “ সরকার খারাপ” এটি অতি প্রশংসিত “মুক্ত বাজারের” মতই - চাইলেই এদের আপনি দিকভ্রষ্ট করে পুঁজির অতিরিক্ত দাবীগুলিকে তুষ্ট করতে পারেন।
নব্য-উদারপন্থী চিন্তাগুলিও বেসরকারী খাতে প্রবেশ করল। ব্যাবসায়িক মডেলটির দরকার “কার্যকারিতা”, মানে সর্বোচ্চ মুনাফা। পরিণতি যা মন চায় হোক। বেসরকারী স্বাস্থ্য খাতে এর অর্থ হচ্ছে, কোন বাড়তি ধারণক্ষমতা নেই : সাধারণ পরিস্থিতে চলার জন্য যা লাগে অতটুকুই। সেই তখনও একান্ত অপরিহার্যের চেয়ে কিচ্ছু বেশী দেয়া হবে না। রোগীর জন্য খরচের অংকটি গুরুতর। কিন্তু ব্যালেন্স-শীটে সবকিছু চমৎকার দেখাবে ( ম্যানেজমেন্টের জন্য যথাযথ পুরস্কার সহকারে)। পরিস্থিতি একটু ওদিক হলেই খবর আছে।
এসব ব্যাবসার সাধারণ নীতি। অর্থনীতির ওপর এদের ব্যাপক প্রভাব। সবচেয়ে মারাত্নকটি হচ্ছে জলবায়ু বিপর্যয়। বর্তমান করোনা ভাইরাস দুর্যোগকেও ছাপিয়ে এটি প্রধান হয়ে উঠতে চায়। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাবসা করে যে প্রতিষ্ঠানগুলি তারা সর্বোচ্চ মুনাফা করতে চায়। মানব সমাজকে টিকে থাকতে সাহায্য করা তাদের ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্যের মধ্যে পড়ে না। এখানে একপ্রকার ঔদাসীন্য, অবহেলার ব্যাপার আছে। ব্যাবসা করার জন্য তারা সারাক্ষণ নতুন নতুন তেলক্ষেত্র খুঁজছে। নবায়নযোগ্য শক্তির পেছনে তারা তাদের অর্থ অপচয় করেন না। নবায়নযোগ্য শক্তির লাভজনক প্রকল্পগুলিকে তার নষ্ট করে দিয়েছেন। যাতে, ধ্বংসযজ্ঞের গতিকে ত্বরাণ্বিত করে তারা আরও টাকা বানাতে পারেন।
অসামান্য এক গুন্ডাবাহিনীর কবলে পড়েছে হোয়াইট হাউজ। সে এই আগুনে ঘি ঢালছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাবহারকে আরও ব্যাপক বিস্তৃত রূপ দিতে সে নিবেদিতপ্রাণ। হোয়াইট হাউজের সগর্ব নেতৃত্বে এরা সবাই মিলে ছুটে চলেছে এক অতলান্ত অন্ধকার খাদের পানে। যেই আইন কানুনগুলি তাদের এই উন্মত্ত ছুটে চলার গতিরোধ করে সেগুলিকেও বিলুপ্ত করে দেয়া হচ্ছে।
ডেভোসে যে লোকগুলি জড়ো হন - যাদেরকে ‘ মাস্টার্স অফ দি ইউনিভার্স’ - ব্রক্ষান্ডের হর্তাকর্তা বলা হয় -এদের প্রতিক্রিয়াটি বেশ শিক্ষাপ্রদ। তারা ট্রাম্পের ইতারামোগুলি অপছন্দ করেন। এক প্রকার সুসভ্য মানবতাবাদের ছবি তারা সবার সামনে তুলে ধরতে চান। ট্রাম্পের স্থূল আচরণ সেটিকে বিনষ্ট করে। কিন্তু ওদেরই প্রধান বক্তা হয়ে ট্রাম্প যখন প্রলাপ বকতে থাকেন, তারা তখন হাততালি সহকারে তাকে উৎসাহ দেন। বোঝা যায় কার পকেট ভরতে হবে সেটি ট্রাম্পের ভালোই জানা আছে।
আমাদের সময়টা এমনই। সবকিছু যেভাবে আগাচ্ছে তাতে একটা আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। আর না হলে এখন যা দেখছেন সেটি কিছুই না। পূর্বাভাস মাত্র। আরও খারাপ কিছু আসছে।
মহামারিতে ফেরত আসি। মহামারি যে সমাগত সেরকম প্রমাণের অভাব ছিল না। এই বিপদের সম্মুখেও ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ আচরণটিই করলেন। তার গোটা শাসনামলেই, সরকারের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত খাত গুলিতে বাজেট কর্তন করা হয়েছে। এবং তাও একদম মোক্ষম সময়ে, “ চীনের উহানে করোনা ভাইরাস তার ধ্বংসযজ্ঞ যেই সময় থেকে শুরু করল বলে ধারণা করা হয়, তার ঠিক দুই মাস আগে ট্রাম্প প্রশাসন একটি দু’শ মিলিয়ান ডলারের মহামারি বিষয়ক সচেতনামূলক প্রকল্পকে বাতিল করে দিলেন। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল চায়না আর অন্যান্য দেশের বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ দেয়া। যেন এধরণের হুমকিগুলি তারা শনাক্ত করতে পারেন এবং ব্যাবস্থা নিতে পারেন” - আসলে ঐ তখন থেকেই ট্রাম্প তার ইয়েলো পেরিল (হলুদ -আতঙ্ক) -এর আগুনে বাতাস করছিলেন। এই চীনভীতি ব্যাবহার করে তিনি দুর্যোগ মোকাবেলায় তার শোচনীয় ব্যার্থতাকে আড়াল করতে চেয়েছেন।
মহামারিতে ফেরত আসি। মহামারি যে সমাগত সেরকম প্রমাণের অভাব ছিল না। এই বিপদের সম্মুখেও ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ আচরণটিই করলেন। তার গোটা শাসনামলেই, সরকারের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত খাত গুলিতে বাজেট কর্তন করা হয়েছে। এবং তাও একদম মোক্ষম সময়ে, “ চীনের উহানে করোনা ভাইরাস তার ধ্বংসযজ্ঞ যেই সময় থেকে শুরু করল বলে ধারণা করা হয়, তার ঠিক দুই মাস আগে ট্রাম্প প্রশাসন একটি দু’শ মিলিয়ান ডলারের মহামারি বিষয়ক সচেতনামূলক প্রকল্পকে বাতিল করে দিলেন। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল চায়না আর অন্যান্য দেশের বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ দেয়া। যেন এধরণের হুমকিগুলি তারা শনাক্ত করতে পারেন এবং ব্যাবস্থা নিতে পারেন” - আসলে ঐ তখন থেকেই ট্রাম্প তার ইয়েলো পেরিল (হলুদ -আতঙ্ক) -এর আগুনে বাতাস করছিলেন। এই চীনভীতি ব্যাবহার করে তিনি দুর্যোগ মোকাবেলায় তার শোচনীয় ব্যার্থতাকে আড়াল করতে চেয়েছেন।
মহামারি সমস্ত শক্তি নিয়ে আঘাত করল। আশ্চর্যের কথা বরাদ্দ কর্তনের প্রক্রিয়াটি থামল না। ফেব্রুয়ারী মাসের দশ তারিখ হোয়াইট হাউজ নতুন বাজেট দেয়। তাতে অবরুদ্ধ স্বাস্থ্য ব্যাবস্থায় ( ঠিক করে বলতে যেসব খাতেই জনগণের কিছু উপকার আছে) অর্থের যোগান আরও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ “ বাজেটে জীবাশ্ম-জ্বালানির একটি ‘এনার্জি বুম’কে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বৃদ্ধিও এর অন্তর্ভুক্ত।”
মানবজাতির অমঙ্গল সাধনের এই প্রণালীবদ্ধ কার্যক্রমকে বর্ণণা করবে - এমন শব্দমালা আছে হয়তোবা। দুঃখিত, আমি তাদের খুঁজে পেলাম না।
ট্রাম্পের চিন্তাধারা আমেরিকান জনসাধারণেরও যথেষ্ট ক্ষতি করছে। কংগ্রেস এবং চিকিৎসা পেশার সাথে জড়িতরা বারবার আর্জি জানিয়েছেন। ট্রাম্প কানেই তুললেন না। তিনি “ডিফেন্স প্রোডাকশান এ্যাক্ট” ব্যাবহার করলেন না। জরুরী চিকিৎসা সরঞ্জাম খুবই অপ্রতুল। ট্রাম্প এই আইন ব্যাবহার করে কোম্পানীগুলিকে আদেশ করতে পারতেন সরঞ্জাম বানিয়ে দেয়ার জন্য। তিনি উল্টো সবাইকে বোঝালেন, এটি হচ্ছে “ সর্বশেষ পদ্ধতি”। একেবারেই আর কেন উপায় না থাকলে এমনটি করা যেতে পারে। আরেকটি যে বাজে কথাটা বললেন যে মহামারিকালে ডিফেন্স প্রডাকশান এ্যাক্ট ব্যাবহার করলে দেশ বলে ভেনেজুয়েলা হয়ে যাবে। অথচ সত্য কথা হচ্ছে, দি নিউ ইয়র্কার পত্রিকা তথ্যপ্রমাণ সহ দেখিয়েছে “ ট্রাম্পের বছর গুলিতে হাজার হাজার বার ব্যাবহার করা হয়েছে” ডিফেন্স প্রডাকশান এ্যাক্ট। আর তা করা হয়েছে সামরিক বাহিনীর জন্য। “ ফ্রী এন্টারপ্রাইজ সিস্টেম” (ব্যাবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের উদার নীতির চর্চা) এর ওপর এই আঘাত দেশ কিভাবে সামলে নিল বলা মুশকিল।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের ব্যাবস্থা তারা করতে চাইল না। কিন্তু তাতে কি আর সুখ হয়। যা মজুদ আছে তাও যেন নিঃশেষিত হয় সেটি নিশ্চিৎ করল হোয়াইট হাউজ। সরকারের বাণিজ্যের তথ্য নিয়ে কংগ্রেসওম্যান কেটি পোর্টারের একটি গবেষণা আছে। সেখানে দেখবেন মার্কিন ভেনটিলেটার রপ্তানির মূল্য জানুয়ারী থেকে ফেব্রুয়ারীতে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ২০২০ এর ফেব্রুয়ারীতে, “ চায়নায় মার্কিন মাস্কের রপ্তানি মূল্য ২০১৯ সালের মাসিক গড়ের তুলনায় ১০৯৪ (শতাংশ) বেশী ছিল।”
গবেষণায় আরও পাওয়া যাচ্ছে :
অতি সাম্প্রতিককালে , যেমন মার্চের ২ তারিখে, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন ব্যাবসায়ীদের চিকিৎসা সরঞ্জাম রপ্তানির জন্য উৎসাহিত করছিলেন। বিশেষ করে চায়নায়। অথচ এই সময়কালে মার্কিন সরকার কোভিড-১৯ এর বিপর্যয়টি সমন্ধে বেশ ভালভাবেই অবগত ছিলেন। আরও বেশী মাস্ক এবং রেসপিরটোরের যে প্রয়োজন পড়বে সেটি তাদের অজানা ছিল না।
দি আমেরিকান প্রস্পপেক্ট-এর লেখায়, ডেভিড ডায়েন মন্তব্য করছেন : “ তো উৎপাদনকারী এবং দালালগণ বছরের প্রথম দুই মাস চিকিৎসা সরঞ্জাম দেশের বাইরে পাঠিয়ে টাকা বানালেন। এখন পরের দুই মাস তারা আবার সেসব আমেরিকাতেই ফেরত আনছেন; এবং সেখান থেকে আরও টাকা কামাচ্ছেন। এখানে ব্যাবসায়িক সাম্যাবস্থা বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। দেশের স্বয়ংপূর্ণতা এবং স্থিতিশীলতাকে কোন গুরুত্ব দেয়া হয় নি।”
সমাগত দুর্যোগ নিয়ে কোন সংশয় ছিল না। অক্টোবারে, একটি উচ্চ-পর্যায়ের গবেষণা আমাদের জানিয়ে দেয় কেমন হতে পারে এই মহামারির বিপদ। ডিসেম্বরের একত্রিশ তারিখ, চায়না ওয়ার্লড হেলথ অর্গানাইজেশানকে জানায় যে দেশ জুড়ে ব্যাপক হারে নিউমোনিয়ার মত উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। সপ্তাহ কয়েক পরে জানাল, বিজ্ঞানীরা এর কারণ শনাক্ত করেছেন। উপসর্গগুলির জন্য দায়ী একটি করোনা ভাইরাস। তারা ভাইরাসের জীনের বিন্যাস ণির্ণয় করেছেন। এই সমস্ত তথ্যই তারা সাধারণ মানুষকে দিয়েছিলেন। এরপর কয়েক সপ্তাহ যাবত চায়না সংকটের ব্যাপ্তি কদ্দূর , কাওকে জানালেন না। পরে দাবী করলেন যে এটি স্থানীয় আমলাদের দোষ। তারা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিতে ব্যার্থ হয়েছিলেন। মার্কিন বিশ্লেষকরাই চায়নার এই দাবীর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
চায়নায় কি হচ্ছিল তা বেশ ভালভাবেই জানা যাচ্ছিল। বিশেষ করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তো তথ্য ছিল। জানুয়ারী থেকে ফ্রেব্রুয়ারী অবধি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বারবার হোয়াইট হাউজের দরজায় করাঘাত করেছেন। প্রেসিডেন্টের সাথে আলাপ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন। কোনই লাভ হয় নি। প্রেসিডেন্ট ছিলেন ব্যাস্ত। তিনি হয়তো গল্ফ খেলছিলেন। আর নয়তো টিভিতে নিজের প্রশংসা করছিলেন যে এই হুমকি মোকাবেলায় বিশ্বে তিনিই অগ্রগণ্য।
হোয়াইট হাউজের নিদ্রা ভঙ্গের চেষ্টা শুধু গোয়েন্দারাই করেননি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে পাওয়া যাচ্ছে, “ একজন উচ্চ পর্যায়ের হোয়াইট হাউজ উপদেষ্টা [পিটার নেভারো] ট্রাম্প প্রশাসনকে কঠোর ভাবে সতর্ক করেন জানুয়ারীর শেষ দিকে। তিনি জানান যে, করোনা ভাইরাস সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কয়েক ট্রিলিয়ান ডলারের ক্ষতির মুখে পড়বে এবং কয়েক মিলিয়ান আমেরিকানকে অসুস্থতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলবে … বিপন্ন হবে লক্ষ লক্ষ আমেরিকানের জীবন [যেমনটি পাওয়া গেছে] চায়না থেকে আসা তথ্যানুসারে।”
লাভ কিচ্ছু হল না। মাসের পর মাস নষ্ট হয়েছে। আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা একেকবার একেক কাহিনী বলেন। খুবই অলক্ষুণে ব্যাপার। সাথে প্রত্যেক ধাপেই তার প্রতি স্নেহশীল রিপাবলিকান ভোটাররা উন্মত্ত উল্লাসে সমর্থন যুগিয়েছেন।
একসময় এসব তথ্য প্রমাণ অগ্রাহ্য করার কোন উপায় থাকল না। ট্রাম্প তখন বিশ্ববাসীকে আশ্বাস দিলেন। বললেন যে তিনিই প্রথম মহামারির বিপদটি শনাক্ত করেছিলেন। বর্তমানে তার দৃঢ় হস্ত সমস্ত কিছুকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। আর এই দাবীর পুরোটাই ট্রাম্পের চাটুকাররা তোতাপাখির মত চারদিকে আবৃত্তি করল। একদল হচ্ছে তাকে ঘিরে রাখা তেলবাজগুলি। আরেকটা হচ্ছে ফক্স নিউজ । এরা ট্রাম্পের ইকো-চেম্বার। ট্রাম্পের সব কথাকে এরা প্রতিধ্বনিত করেন। তারাই ট্রাম্পের সমস্ত তথ্য এবং ধ্যান ধারণার উৎস। এরা যা বলেছে তা থেকে বেশ মজার একটি সংলাপ তৈরী হয়।
এসবের কিছুই অনিবার্য ছিল না। দুর্যোগের প্রাক্কালে চায়নার দেয়া তথ্যগুলির মর্মার্থ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ছাড়া অন্যরাও বুঝতে পেরেছিল। চায়নার সীমানাঘেঁষা দেশগুলি তৎক্ষণাৎ ব্যাবস্থা নিয়েছিল। তাইওয়ান, সাউথ কোরিয়া, হঙকঙ আর সিংগাপুরে তারা খুব কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছিল। নিউজিল্যান্ড লকডাউনে যেতে একটুও দেরী করে নি। ফলাফল, তারা এই মহামারিকে দৃশ্যতঃ খতম করে দিয়েছে।
ইউরোপের বেশীরভাগ অংশই ইতস্ততঃ করছিল। তবে অধিকতর সুশৃঙ্খল সমাজগুলি দেরী করে নি। বিশ্বের সবচেয়ে কম মৃত্যুহার জার্মানিতে। জার্মানি উদ্বৃত্ত সক্ষমতাকে সংরক্ষণ করেছিল। এর উপকার পেয়েছে তারা। নরওয়ে এবং অন্যান্য কিছু দেশের জন্যও এটি সত্য। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ান দেখিয়ে দিয়েছে কত্ত সভ্য তারা। ওদের যে দেশগুলি অবস্থাপন্ন, তারা দুর্বল দেশগুলিকে সাহায্যের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সৌভাগ্যজনক ব্যাপার হচ্ছে তারা কিউবাকে পাশে পেয়েছে। কিউবা তাদেরকে ডাক্তার পাঠাল। আর চায়না দিয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম।
এই সবটার থেকেই শেখার জিনিস অনেক। তার মাঝে লাগামহীন পুঁজিবাদের স্ববিধ্বংসী স্বভাবটি গুরুত্বপূর্ণ। সাথে নব্য উদারপন্থার উপদ্রব যে বাড়তি ক্ষতিটা করল। জবাবদিহিতা নেই, এমন ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানদের কাছে সিদ্ধান্ত গঠনের দ্বায়িত্ব ছেড়ে দিলে কি বিপদ হয় সেটি এই দুর্যোগে বেশ স্পষ্ট হল। কারণ এধরণের প্রতিষ্ঠানগুলির সমস্ত নিবেদন তাদের লোভের প্রতি। তাদের একমাত্র দ্বায়িত্ব এবং কর্তব্য, যেমনটি মিলটন ফ্রিডম্যান এবং অন্যান্য মনীষীগণ বলেছেন, হচ্ছে অর্থশাস্ত্রের আইনগুলিকে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছু বিশেষ শিক্ষা রয়েছে। যেমনটি ইতিমধ্যে জানা গেল, দি অর্গানাইজেশান ফর ইকোনমিক কো-অপারেশান এন্ড ডেভেলপমেন্টের তালিকায় , যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একদম নীচের দিকে। এখানকার বেসরকারী স্বাস্থ্যখাত একটি বিপর্যয়। তারা সম্পূর্ণই মুনাফা নির্ভর। এরা এমন একটি ব্যাবসায়িক মডেলকে অনুসরণ করে যেটি দিয়ে সর্বোচ্চ পরিমাণ টাকা বানানো যায়। তুলনীয় দেশগুলির বিচারে এখানে মাথা পিছু ব্যায় প্রায় দ্বিগুণ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের পরিণতি আলোচ্য দেশগুলির মাঝে সবচেয়ে খারাপ। আমাদের এটা মেনে নেয়ার প্রয়োজন নেই। নিশ্চিত ভাবেই এখন সময় এসেছে অন্য দেশগুলির পর্যায়ে নিজেদের উন্নীত করার। একটি বিশ্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেটি মানবিক এবং কার্যকরী।
আরও কিছু সরল পদক্ষেপ রয়েছে। সেগুলিও এই মহুর্তে গ্রহণ করলে ভাল হয়। ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলি আবারও তাদের বড়-ভাই ‘রাষ্ট্র’-এর কাছে ছুটছে। এই বিপদের সময়ে ভাই যেন তাদের ব্যাবসাটা বাঁচান। রাষ্ট্র যদি এদের রক্ষা করেই , তাহলে কঠিন শর্ত আরোপ করে দিতে হবে। এক হচ্ছে এই দুর্যোগ যতদিন চলবে ততদিন কার্যনির্বাহী পদের কারও জন্য কোন বোনাস নেই, বেতনও নেই। নিজেরা নিজেদের শেয়ার কিনে নেয়া, সম্পদ বিদেশে পাচার করা এসব একদম বন্ধ। সাধারণ পাবলিকের ওপর এভাবে কত ট্রিলিয়ান ডলারের ডাকাতি করে নেয় কোম্পানীগুলি। সুতরাং বন্ধ করা গেলে সেটি কোন ছোট পরিবর্তন হবে না। এমন করা কি সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব। আগে তো এটাই আইন ছিল। এই আইনই তো সবাইকে মেনে চলতে হত। তারপর না একসময় রিগ্যান সব উন্মুক্ত করে দিলেন। তাছাড়াও ব্যাবস্থাপনা পর্যায়ে শ্রমিকদের একজন প্রতিনিধি রাখতে হবে। আর জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত - এমন অংকের একটি মজুরী প্রদান করতে হবে, এবং সেটি মেনে চলতে হবে। চট করে এই কয়টা শর্তই মাথায় আসছে।
ছোট খাট আরও কিছু পদক্ষেপ নেয়া যায়। সেগুলির কোনটাই অসম্ভব নয়। চাইলে বড় পরিসরেও তাদের কার্যকর করা যেতে পারে। তা বাদে, এই সংকট আমাদেরকে নতুন করে ভাবার সুযোগ দিল। পৃথিবী নিয়ে ভাবুন। চিন্তা করুন কিভাবে সেখানে পরিবর্তন আনা যায়। কর্তারা কিন্তু নিজেদের উদ্দেশ্যগুলি চরিতার্থ করার জন্য মনপ্রাণ সঁপে দিয়েছেন। জনপ্রিয় শক্তিগুলিকে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। কোনভাবেই জিততে দেয়া যাবে না। আর নাইলে আরও কুৎসিত একটি পৃথিবীর দেখা পাব আমরা অচিরেই। এবং সেই পৃথিবী কিন্তু টিকবে না বেশীদিন।
কর্তারা রয়েছেন অস্বস্তিতে। কৃষকরা মাথা তুলে দাড়াচ্ছে। তাদের হাতের ত্রিশূল আসমানমুখী। বড় বড় ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানদের হেডকোয়ার্টারে সুর বইছে অন্যরকম। কার্যনির্বাহীর উচ্চ পদে থাকা কর্মকর্তারা যোগ দিচ্ছেন। সবাইকে দেখাতে চাচ্ছেন তারা লোক ভালো। ইঙ্গিতটি এমন যে, তাদের মমতাবান হাত দুটি নিয়ন্ত্রণে থাকলে সবারই সুন্দর জীবন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। তারা ঘোষণা দেন যে, কর্পোরেট সংস্কৃতি এবং চর্চার আরও যত্নবান ( বেপরোয়া ভাব কাটিয়ে ওঠার) হয়ে ওঠার সময় এসেছে। শুধু শেয়ারের ভাগীদারদের (যারা সবাই মূলতঃ ধনী) স্বার্থ দেখলে হবে না, ঝুঁকির ভাগ যারা নেন - শ্রমিক এবং সমাজ - তাদের নিয়েও চিন্তা করতে হবে। ডেভোসে শেষ যে সম্মেলনটি হল , জানুয়ারীতে , সেখানে এটিই ছিল মূল আলোচ্য।
এই গান আমরা আগেও শুনেছি। কেউই সেটি বলছেন না কেন জানি। ১৯৫০ এর কথা মনে করুন। পঞ্চাশ সালের দিকে এরকম একটি শব্দমালা ছিল “ আত্নার বন্ধনে গড়া প্রতিষ্ঠান”। কিরকম আত্নার বন্ধন সে তো ক’দিনের ভেতরই টের পাওয়া গেছে।
সি জে পলিখ্রনিয়ু : বব, আপনি একটু আমাদের বুঝিয়ে বলুন করোনা ভাইরাসের অর্থনৈতিক ধাক্কাটি কিরকম? আর্থসামাজিক প্রভাবটি কতটা প্রকট হবে? এবং সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবেন কারা?
রবার্ট পলিন : কোভিড-১৯ এর দরুণ যে অর্থনৈতিক ধ্বস নামছে, তার গতি অতি বিপজ্জনক। ইতিহাসে এরকমটার নজির নেই।
এপ্রিলের ৪ তারিখ থেকে সপ্তাহটির দিকে দেখি। ৬৬ লক্ষ মানুষ কর্মহীন বীমার আবেদন করেছেন। তার আগের সপ্তাহে এই আবেদন করেছেন ৬৯ লাখ মানুষ। আর তারও আগের সপ্তাহে ৩৩ লাখ লোক। এই তিনটি সপ্তাহ’র পূর্বে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক মানুষ কর্মহীন বীমার আবেদন করেছিল ১৯৮২ সালের অক্টোবার মাসে। তখন রোন্যাল্ড রিগ্যান আমলের তীব্র ডবল-ডিপ রিসেশান চলছিল (অর্থনৈতিক মন্দা , ক্ষণকালীন বৃদ্ধি, আবার মন্দা - ডবল ডিপ রিসেশান)। সেই সময় এই আবেদনের সংখ্যা রেকর্ড গড়েছিল - ৬৫০, ০০০। ১৯৮২ সাল আর বর্তমান দিনের সংখ্যায় পার্থক্যটি আমাদের বিহ্বল করে। বুঝলাম যে, ১৯৮২ সালের তুলনায় আজকের মার্কিন শ্রম-শক্তি আকারে অনেক বড়। তারপরও এটা মানা যায় না। কারণ, ১৯৮২ সালে কর্মহীন বীমার ৬৫০,০০০ টি আবেদন ছিল তখনকার মোট মার্কিন শ্রমশক্তির শতকরা ০ দশমিক ৬ ভাগ। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের ৬৬ লাখ আর আগের সপ্তাহের ৬৯ লাখ মানুষকে একসাথে হিসেব করলে হয় আজকের মোট মার্কিন শ্রমশক্তির শতকরা ৪ ভাগ। তাহলে শ্রমশক্তির শতকরা হিসেবের দিক থেকে, কর্মহীন বীমার এই সাপ্তাহিক আবেদনগুলি ১৯৮২ সালের পূর্বোক্ত রেকর্ডের তুলনায় ৭ গুণ বেশী। গত তিন সপ্তাহের এই কর্মহীন-বীমার দাবীদারদের সংখ্যাটি যোগ করুন। ১ কোটি ৬৮ লক্ষ মানুষ। এই এক কোটি আটষট্টি লাখ মানুষ অতি সাম্প্রতিককালে তাদের জীবিকা নির্বাহের উপায়টি হারিয়েছেন। যেটি মোট মার্কিন শ্রমশক্তির শতকরা দশভাগের বেশী। আশঙ্কা করা যায় যে অনাগত সপ্তাহগুলিতে এই সংখ্যাটি বাড়তে থাকবে। এমন সম্ভাবনাই প্রবল যে কর্মহীনতার হার শতকরা ২০ ভাগে চলে যাবে। এরকম বিষয় শেষবার দেখা গিয়েছিল ১৯৩০ সালে। যখন গ্রেট ডিপ্রেশানের অন্ধ গহ্বরে তলিয়ে গিয়েছিল আমেরিকা।
----------
চমস্কি পলিনের সাক্ষাৎকারের বাকী অংশ এবং এরকম আরও অনেকগুলো লেখা পাওয়া যাবে ২০২১, মার্চ এপ্রিলের বইমেলায় চারদিক প্রকাশিত জনাব মেসবাহউদ্দীন আহমেদ সম্পাদিত " একুশ শতকের অতিমারি আগ্রাসন" বইটিতে।