ছোট-গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ছোট-গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৩ মে, ২০২০

এ্যান্থন শেকভের ছোটগল্প : আনন্দ

                               এ্যান্থন শেকভ (১৮৬০- ১৯০৪)
রাত্রি বারোটা প্রায়।
মিতিয়া কুলডারোভ তাহার (বাবা-মার) ফ্ল্যাটের দরজা একপ্রকার ভাঙিয়া ফেলিয়া ভেতরে প্রবেশ করিলেন। তাহার মুখ উত্তেজনায় রক্তিম। চুল অবিন্যস্ত। মিতিয়া সমস্ত বাড়ি জুড়িয়া দৌড়ে বেড়াইতে লাগিলেন। বাপ-মা ঘুমাইতে গিয়াছিলেন ইতোমধ্যে। বোনটিও কি একটি উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠাকে চুকাইয়া দিয়া নিদ্রায় যায় যায় অবস্থা। স্কুলগামী শিশু ভাইদুটি তো কবেই অচেতন।
 “ এ্যাই তুমি কোত্থেকে আসলা?” বিস্ময়ে চিৎকার করে ওঠেন নিদ্রাহত পিতা মাতা। “ তোমার ঘটনাটা কি?”
“ আরে আর বইলেন না! আমি তো ভাবিও নাই এমন হইব; স্বপ্নেও ভাবি নাই কোনদিন! কি ঘটনা যে ঘটছে আপনেরা শুনলে …. যাকে বলে মারাত্নক সুসংবাদ ”
মিতিয়া হাসিতে থাকে। ঢলিয়া পড়েন আর্মচেয়ারের গায়ে। আনন্দ তাহারে এমন আত্নহারা করিয়াছে যে পদযুগল আর শরীরকে সামলাইতে পারে না।
“ আপনাদের পোলায় ঘটনা ঘটায় ফালাইল! চিন্তা করতে পারেন! এই দ্যাখেন মিয়া আপনেরা!”
তাহার বোন শয্যা ছাড়িয়া, গায়ে চাদর জড়াইয়া ছুটিয়া আসিল ভাইয়ের কাছে। স্কুলগামী শিশু দুই উঠিল জাগিয়া।
“ ঘটনা কি বাবা? তোমার চোখ মুখ এমন ক্যান!” 
“ কারণ আম্মা আমার খুশি রাখোনের জায়গা নাই! আপনে জানেন পুরা রাশিয়া এখন আপনার এই পোলার নাম জানে! পুরা রাশিয়া। এর আগে খালি আপনে জানতেন যে ডিমিত্রি কুলডারোভ নামের একজন রেজিষ্ট্রেশান ক্লার্ক আছে। আর অখন জানে পুরা রাশিয়া, আম্মা, পুরা রাশিয়া! ওহ রে খোদা রে!”
মিতিয়া লাফ দিয়া উঠিয়া দাড়াইলেন। বোধ হইল এই যেন উড়িয়া চলিয়া যান। সমস্ত বাড়ি জুড়িয়া আরও একবার তিনি দৌড়াইয়া ফিরিলেন। আর্মচেয়ারে বসিলেন যখন, প্রশ্ন আসিল,
“ ক্যান, হইসে টা কি? ঠান্ডা হইয়া ক আমগোরে!”
“ আরে আপনেরা তো থাকেন জংলীগো মত, পেপার পত্রিকাতো পড়েন না কিছু। কি ছাপতেছে না ছাপতেছে হ্যারা কিছু জানেন। কত কত ইন্টারেস্টিং জিনিস ছাপতেছে পত্রিকায়। কিছু হইলেই পাবলিকে একবারে জাইনা লায়। লুকানোর উপায়ই নাই। আমি যে কি খুশি আইজ! খোদা তোমার অনেক মেহেরবানি! এটুক তো জানেন যে একমাত্র বিখ্যাত লোকদের কথাই ছাপে পত্রিকায়। আইজকা অরা আমার নাম ছাপছে!
“ কি কস? কই?”
পিতাটির মুখ পাংশুবর্ণ ধারণ করিল। মাতা ভগবানের ছবিটির পানে চাহিয়া বুকে ক্রুশ আকিঁলেন। স্কুলগামী বালকদ্বয় নিদ্রা ত্যাগ করিয়া ছুটিয়া আসিল ভাইয়ের কাছে। পায়জামা পরিবর্তনের ফুরসৎটিও মিলে নি তাহাদের।
“ হ্যাঁ, ছাপাইছে তো আমার নাম! পুরা রাশিয়া এখন আমারে চিনে! এই পত্রিকা আম্মা রাইখা দিয়েন। এইটা একটা স্মৃতি! মাঝেমাঝে বাইর কইরা পড়বেন! এই যে এই জায়গায় দ্যাখেন আমার নাম!
মিতিয়া তাহার পকেট হইতে পত্রিকার কপিখানি বাহির করিলেন। হস্তান্তর করিলেন পিতার হাতে। এক জায়গায় একটি অনুচ্ছেদ নীল পেন্সিলে দাগানো। সেদিকে অঙুলি তুলিয়া কহিলেন,
“ দ্যাখেন পইড়া!”
পিতা চোখে চশমা দিলেন।
“ জোরে জোরে পইড়েন আব্বা!”
মাতা আবারও ভগবানের পানে চাহিয়া অদৃশ্য ক্রুশকে নির্দেশ করিলেন। পিতা কাশিয়া কন্ঠশোধন করিয়া পড়িতে আরম্ভ করিল : “ তারিখ ২৯ ডিসেম্বরের সন্ধ্যা এগারটার সময়, ডিমিত্রি কুলডারোভ নামধারী একজন রেজিস্ট্রেশান ক্লার্ক ….”
“  এই যে দেখলেন দেখলেন! পড়তে থাকেন!”
“ ডিমিত্রি কুলডারোভ নামধারী একজন রেজিস্ট্রেশান ক্লার্ক, লিটল ব্রোয়ান্নিয়ার কোযিহিন ভবনের একটি পানশালা থেকে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় বেরিয়ে আসেন…”
“ এই যে আমি আর শেমিয়োন পেত্রোভিচ, আমরা দোনোজন আছিলাম, হুবহু আমাদের কথাই কইতেছে! পড়ে যান! বাকী সবাই মন দিয়া শুনবা!”
“ নেশাগ্রস্থ অবস্থায় বেরিয়ে আসেন এবং একটি টানা-গাড়ির ঘোড়ার নীচে পড়ে যান। গাড়ির মালিক ইভান ড্রোটোভ পেশায় কৃষক, জেলা ইয়ুভনোস্কি গ্রাম ডুরিকিনো। ভীত ঘোড়াটি কুলডারোভকে মাড়িয়ে গাড়ি সমেত তার ওপরে উঠে পড়ে এবং ছুটতে শুরু করে। এইসময় গাড়ির ভেতরে মস্কোর ব্যাবসায়ী পরিষদের দ্বীতিয় সারির সদস্য স্টিফান লুকোভ অবস্থান করছিলেন। তাকে সহই ঘোড়া-গাড়িটি ছুটে চলে। এসময় আশেপাশের বাড়ির কয়েকজন দারোয়ান এগিয়ে আসেন এবং ঘোড়াটিকে থামাতে সক্ষম হন। কুলডারোভকে, প্রাথমিকভাবে অজ্ঞান অবস্থায়, পুলিশ স্টেশানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে একজন ডাক্তার তাকে পর্যবেক্ষণ করেন। তার মাথার পেছন দিকের আঘাতটি ….”
“ ওটা গাড়ির শ্যাফট দিয়া লাগসিলো , আব্বা। পড়তে থাকেন! বাকীটা পড়েন!”
“ আঘাতটি তেমন গুরুতর নয়। ঘটনাটি নিয়ে তখনই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। আঘাতপ্রাপ্ত ব্যাক্তিকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে …”
“ ওরা বলসে কাপড় ঠান্ডা পানি দিয়া ভিজাইয়া মাথার পিছে চাপ দিতে। পড়লেন তো? হ্যাহ! দেখসেন। এখন পুরা রাশিয়া লোক আমার কথা জানে! দ্যান দেখি!”
মিতিয়া পত্রিকাটি কাড়িয়া লইলেন। ভাজ করিয়া রাখিয়া দিলেন নিজের পকেটে।
“ আমি অখন মারাকোভদের বাসায় যামু। অগোরে দেখামু, তারপর ইভানিটস্কিসদের তো দেখাইতেই হইব, নাতাশা ইভানোভনা আর আনিসিম ভ্যাসিলীইটচ … দৌড়ায়া দৌড়ায়া যামু সবার কাছে ! গুড বাই!”
ফিতার গিটওয়ালা টুপিখানি মাথায় চড়িয়ে, উল্লাসে আনন্দে নৃত্য করিতে করিতে মিতিয়া বাহিরে রাস্তায় চলিয়া গেলেন।

বঙ্গানুবাদ : সালেহ মুহাম্মাদ 
bengali translation © saleh muhammed 


বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

গল্প নং এক

এখন থেকে গল্প লেখব একটা প্রতিদিন। একটার বেশীও লেখা যাবে, চাইলে।
এটা ফার্সট গল্প। এসব লেখা হয় না বহুদিন। অনুবাদের ঠেলায় নিজস্ব লেখালেখির বাজে অবস্তা।
ভুলেই গেসি কিভাবে লেখতাম গল্প।
এইটা অতটা গল্প না। গল্প লেখার আগের অবস্তা বলা যায়। আমি সিরিয়াসও না এই বিষয়ে।
মানে এগুলা প্রকাশের তাড়া নাই। কমপক্ষে তিনশ ওয়ার্ড হতে হবে একেকটা গল্প।
নিজের লেখালেখি প্রকাশের কোন তাড়াই আসলে নাই আমার এখন। অনুবাদ চলুক। যদি চাহিদা হয়
সমাজে,  তখন প্রকাশ করা যাবে।
 কিন্তু আমার ভাষা কই?  এই যে লিখতেসি হুমায়ূন থেকে একটা বাক্য টাইনা, ব্রাত্য রাইসু থেইকা কৌশল ধার কইরা, আর পরে ফেসবুকে কত কত পোলাপানরে ফলো করি ওগো থেকেও ধার করতেসি, আমর অনুবাদগুলা থেকে নিতেসি।
আমার ভাষা কই? আমি কি বলব?
একটা অবভিয়াস পরিণতি ওয়ালা গল্প লিখে কি হবে। যেগুলি জানিই যে কোনদিকে যাচ্ছে। অবধারিত ভাষা আর কৌশল। একই চরিত্র। সাহিত্যগুলি সব কোন অটোমেশানের ভিত্রে পড়ে গেছে। একটি নির্দিষ্ট কোড নিজেকে পুনরাবৃত্তি করেই যায়, আর করেই যায়।
এইটা গল্প হইতেসে না। গল্প আগায় নেওয়ার জন্য চরিত্র দরকার ঘটনা দরকার। এখানে কি ঘটছে? ঘটনার সন্ধানে আমাকে নীচে নামতে হবে। মানে আমি এই গল্প লেখা অবস্থাতেই বাসা থেকে নীচে নামব এবং একই বিন্দুতে দুই ঘটনা সম্ভব নয় বলে যে কোন একটা গল্প হয়ে যাবে। এই গল্প লেখা চলমান, সুতরাং ঘরে বসা অবস্থাতেই যে নীচে নামলাম ,তাতে ঐ নীচে নামাটাই গল্প হইল।
নীচে রোদ। মিষ্টি বাতাস আছে। একটা ছেলে, আমি চিনি বলে মনে হচ্ছে, রাস্তার উল্টো দিকে দাড়িয়ে আমার দিকে চেয়ে বিড়ি টানতেসে। মিষ্টি বাতাস যে আসে, ওটা থেমে থেমে আসে। বাতাসের এই আসা যাওয়ার সাথে বিড়ি টানা, ধোঁয়া ছাড়া, ছাই ফেলাকে কেমন সিনক্রোনাইজ করছে ছেলেটা।
এখন আমার কেমন সন্দেহ হচ্ছে। আমি লেখতেসি যেখান থেকে তার একটা পাাশের জানালা দিয়ে নীচে তাকাই। বাসার উল্টো দিকের ফুটপাতের ওপর দাড়ানো সিগারেট হাতে ছেলেটাকে দেখতে পাচ্ছি। দেখছি রাস্তা পেরিয়ে তার দিকে এখনই আমি যাব। নিজেকে দেখার আগেই চট করে আমি জানালার কাছে থেকে সরে যাই।

আমি রাস্তা পার হচ্ছি। বিড়ি টানা ছেলেটা মৃদু মৃদু হাসছে এদিকে চেয়ে। আবার সে কেমন একটা ইশারা করে ওপরে আমার বাড়ির দিকে একবার তাকাল। আমিও মাঝরাস্তায় দাড়িয়ে ওপরে দেখার চেষ্টা করছি এখন। অতি দ্রুত কেউ একজন সরে গেল জানালার কাছে থেকে।
করুণ আহত চোখে আমি তাকাই উল্টা পাশের ফুটপাতে বিড়ি খাওয়া ছেলেটার দিকে। সে সুন্দর আছে। আর এখন অয় হাসতেছে পুরা ঘটনা দেইখা।
যদিও মানব জীবনকে আমি তুচ্ছ বলেই জানি, তারপরো অনেক খারাপ লাগতেসে।

শনিবার, ৫ মার্চ, ২০১৬

ব্রেকিঙ ব্যাড


আমি ছাদ থেকে দেকতেসিলাম নীচে আর নীচে অনেক ফুল ছিল। অতটা সকাল হয় নাই। যেন ভোর এখনও। ফুলে থেকে গন্ধ আসে বুঝার জন্যে আমি শুকব ভাবসিলাম। কিন্তু শুকলে আমার এলার্জি হয়। তাই চায়ের দোকানে গিয়ে সিগারেট ধরালে দেখি রিক্সায় করে আংকেল যাচ্ছে একটা। উনি দেখলেন কিন্তু দেখলেন না যেন এমন একটা ভাব নিয়ে থাকলেন।

আমি মনে করলাম আজকে কুয়াশা। তাইলে হাটব প্রচুর। ভার্শিটির দিকে যামু নাকি। কিন্তু ভার্সিটিতে ফুল ফোটে না। নিউমার্কেট থেকে একটা মুরগী এনে দুপুরে রাঁধব ভাবলাম। তিনমাস আগে চিংড়ি রানসিলাম। চায়ের দোকানে সিগারেটটা শেষ হয়। 

ইশতিয়াকের ফোন আসে যে আমি কই। আমি যামু না ভাবি। কিন্তু পরে যাই। ইশতিয়াক নিউমার্কেটে যাবে না। ওদিকে কে মারতে পারে বলে ওকে। আমি বললাম তাইলে ভার্সিটি যাই। ভার্সিটিতে রিক্সাওয়ালা যাওয়ার জন্য চায় না। ব্রেকিং ব্যাডের ঐ সিনটা ভাল ছিল। ঐ যে মাইকরে গুলি করল ওয়াল্টার। তারপরে কেমন যে অবাক হল।

সিগারেট খামু কি আরেকটা। সেদিন ফকরুলের বড় ভাই মারা গেল মাত্র চল্লিশে। ফুসফুসে কি গ্যানজাম। সিগারেট উনি খাইত। ওনার বউটা একা হয়ে গেছে। বউটার বয়স বলে পঁচিশ। তাই ইশতিয়াক একটা খারাপ কথা বলসে।

ইশতিয়াকের কাছে আমি একশ টাকা পাই। জিগাইলে রাগবে। ইশতিয়াকের বাপ গরীব। ফেমিলি চালায় ইশতিয়াক নিজেই। টিউশানী। ধান্দাবাজিও করে। কিছুদিন ছিনতাই করছে। আমি গেসিলাম দেখতে একদিন কেমনে করে ছিনতাই। আমি কলেজে পড়তাম। লম্বা আরো দুইটা ছেলে ছিল। একজন দেখতে উলভেরিনের লোকটার মত। কি নাম জানি। ওরকম লম্বা। কিন্তু ব্রেকিং ব্যাড দেখে আর ভাল্লাগে নাই অন্য মুভি দেখতে। আমার মনে হয় ঐ সিনটার কথা। ঐ যে মাইককে গুলি করল ওয়াল্টার। তারপর কেমনে তাকাল।

আমরা রিক্সায় বসে হাসছিলাম আর ইশতিয়াক বলতেসিল যে ফকরুল ভাইয়ের বউ বলে আরেক ছেলের সাথে ঘুরতে সেদিন বসুন্ধরা সিটি গেছে। ফুডকোর্টে বসে খাইতেসিল ইশতিয়াকে আর ওর গার্লফ্রেন্ড। পরে ওরা দেকসে। ওর গার্লফ্রেন্ড বলে চিনে ফকরুল ভাইয়ের ওয়াইফকে কি এক রিলেশনে। ডাক দিসিল বলে। কিন্তু মহিলা তাকায় নাই।

আরেকটা সিগারেট খামু। গলায় সিগারেট ঝোলানো লোকরা বেচেতেসে। দুটা কিনলাম। নইলে ইশতিয়াক খুব জ্বালাবে। আরাম করে খেতে দিবে না। উপরের তারে একটা কাক। একা একা বসে আছে। কেমন উদাস মনে হইল। ব্রেকিঙ ব্যাডে মাইকের মধ্যে একটা উদাস ভাব এরকম আছে।

আমি দেখসিলাম ফকরুল ভাইয়ের ওয়াইফকে। সেই-ই দেখতে। কুলখানিতে গেছিলাম। গরুর বিরানী করছিল। ইশতিয়াক চুরি করে তিন প্যাকেট নিছিল। শালা লো লাইফ একটা।

লাল শার্ট পড়া লোক রিক্সার সামনে দিয়ে গেল। বেঁটে। ছিনতাই করছিল ইশতিয়াকরা এরকম লোকরে। লোকটা কি কানছিল। আমার খারাপ লাগসিল। কিছু বলি নাই। লম্বা লম্বা উলভেরিনের মত ছেলেগুলা ছিল। ওদের খুব রাগ। লোকটার কি কি জানি নিছিল। শার্ট প্যান্ট খুলে রাইখা দিসিল। আর লম্বা ছেলেদের একটা হাসছিল হ্যাহ হ্যাহ হ্যাহ। হাত দিয়ে গা ঢেকে দাড়ায় ছিল লোকটা। পালায় নাই। আমরাই পরে চলে আসছি।

ব্রেকিং ব্যাডের ঐ সিনটার কথা আমার মনে হয়। ঐ যে জেসির বেজমেন্টে ওয়াল্টার ফার্স্ট খুনটা করল। পিছন থেকে টাইনা ধরে রাখসে। ঘটনার আগে ওয়াল্টার প্লেটের ভাঙা টুকরাগুলো দেখতেসিল। জোস ছিল সিনটা।

সাদা গাড়ি দেইখা মনে পড়ল আমাদের পুরান গাড়িটার কথা। মা বলসিন স্কুল থেকে আসার পর যে
-        বাবা একটা মজার জিনিষ দেখবা?
আমি ভাবসি চকলেট। পরে দেখি গাড়ি। আমি অত খুশি হই নাই। ভাব করসিলাম যে হইসি। গাড়ির ভিতর আমার গরম লাগে। কিন্তু মা যে কি খুশি হইসিল। মার কথা খুব মনে পড়ে। একমাস হইসে মা মারা গেসে। আমি প্রতিদিন স্বপ্নে দেখি। দেখি মা। আর আমি ছোট অনেক। আব্বকেও দেখি। দেখি যে সব চুল কাল। স্বপ্নে মনেই আসে না যে আম্মা মারা গেছে। স্বপ্ন ভাঙার পর বুঝা যায়। তখন অনেক কষ্ট হয়। আমার মনে হয় আমি অনেকটা জেসি ছিল যে ব্রেকিং ব্যাডে ওর মত। আবার মনে হয় আসলে ওয়াল্টারের মত আমি। আমার টেবিলের ড্রয়ারে কেরুর ভদকা ভরা আছে মাম পানির হাফ লিটার বোতলে। সেদিন কিনসি। আমারে প্রমিজ করায়ে গেসে মা মারা যাওয়ার দিন যে এসব আর খাব না। যে মারা গেছে তার প্রমিজ রাইখা কি হয়? আমি দু তিন ঢোক খাই ঘুম ভাঙলে। ইট বার্ণস। আরেকটু খাই। কেরু আরেকটু কিনে রাখতে হবে। টাকা পয়সার যে গোয়ামারা কি যে করুম। আগে আম্মা টাকা পয়সা দিত হাতে। এখন কেউ দেয় না। টাকার কথা কইলে আব্বা জিগায় যে কেন , কিজন্যে।

আর খুব রোদ বাইরে। কিন্তু সকালে ঠান্ডা ছিল বলে ভাবতেসিলাম সারাদিন হাঁটব। ইশতিয়াক মনে হয় না হাঁটবে। ও রিক্সা নিছে ধানমনডি নয়ের দিকে। সাবরিনার ফ্ল্যাটে যাইব। সাবরিনার লগে অয় রিলেশন করসে চারমাস। দুটা মিলে সারাদিন উইড খায়। বাবা খায়।

একটা বাড়ি তিনতলা। ছাদ থেকে বোগানভেলিয়ার ঝাড়। ব্রেকিং ব্যাডে ছিল না ওয়াল্টার একটা চুরুট খাইতেসে। সিগারেটটা ধরালে আমার কাশি হয়। গত সাতদিনে খুব কাশি। সিগারেটটা কমায়সিলাম। সেদিন চায়ের দোকানে সিগারেট খাইতেসিলাম তখন ইউনুস ভাইরে দেখলাম। কয় যে
-        তুমার বাবা আছে কেমন?
-        আছে ভাল। আপনের কি অবস্থা।
-        আছি ভালই তো। তো তুমি বেদ্দপের মত বিড়ি টানতেস সিনিয়র মিনিয়র দেখ না।
-        ফালতু কথা শোনার টাইম নাই বাই, যানগা।
ইউনুস ভাই দেখসে আমাকে অনেক্ষণ। উনার ছোট ছোট চোখ আর আমিও সিগারেট টানতে টানতে ওনারে দেখতেসিলাম। আমার মনে হইতেসিল আমি অনেকটা ওয়াল্টারের মত।  

ইশতিয়াক কইল যে,
-        মামা রাখ.... ঐ নাম।
আমি বললাম
-        এখানে আইলি ক্যান?
-        সাবরিনার বাসায় দুপুরে খাইস।
-        আগে কইলেও তো পারতি।
-        তোর মা মারা গেশে এরপর থেকে সাবরিনার লগে তো তোর দেখা হয় নাই। ও তোরে নিয়ে আসতে বলশে। গত উইকে ওর বার্থডে ছিল। খাওয়াইব।
সাবরিনার বাসায় গেলে ও ইশতিয়াকরে কিস করে। পাঁচ মিনিট ধরে। ছয় মিনিট ধরে। তারপর জিগায় যে আমরা উইড খামু কিনা। আমি উদাস হই। ইশতিয়াক কয় খাইব। সাবরিনা কয় ও গতকাল আনাইসে আখারুলরে দিয়ে। সাবরিনার রুমে বসে আমরা বঙে উইড ভরি। ও আগে থেকেই বাইছা বুইছা সব কাইটা রাখছিল । সাবরিনার বাপ বড়লোক। ওর রুমটা সুন্দর। বড় আর গোলাপী। বিশাল জানালা। জানালার কাছে ছাদ থেইকা নাইমা আসা বোগানভেলিয়ার ঝাড়ের মধ্যে দিয়ে রোদ এসে এসে গোলাপী ঘরটা আরো গোলাপী হয়ে যায়গা। আমি গাঁজা টানতে টানতে মিষ্টি মিষ্টি গন্ধ পাই। ইশতিয়াক আর সবারিনা আলুমিনিয়ামের ফয়েলের নীচে আগুন দিছে। বাবা খাইতেছে। ওরা এখন হাসতেছে। কিস করতেছে। একটু পর আমারেও আইসা সাবরিনা খামচাখামচি শুরু করল। ইশতিয়াক বিরক্ত হইল। আমি কইলাম যে
-        আজকে যাইগা। পরে আরেকদিন খামুনে।

  বাইরে কুয়াশা কুয়াশা হইছে। কিন্তু এটা ফাগুন মাস। পহেলা ফাগুনের বাইর হইসিলাম আমি। এঁকা এঁকা হাঁটতে হাঁটতে  রাস্তায় দেখা হইছিল সাবরিনার লগে। আমারে দেইখা ডাক দিছিল। বাসায় যাওনের পর সবারিনা কাঁদল। বলল যে
-        তোমার মা মারা গেছে, বেইবি আমি এত্তো সরি...
সে আমাকে জড়ায়ে ধরল। আমরা সারাবিকাল জড়াজড়ি করে ছিলাম। আমার কাছে মনে হইসিল ফাগুন মাস রহস্যময়। আমি ভাবসিলাম এসব কথা আমি ইশতিয়াকরে জানায় দিই। কিন্তু তখন আমার মনে হচ্ছিল ঐ সিনটা যে ব্রেকিং ব্যাডে ওয়াল্টার গুলি করছে মাইকরে। তারপর অবাক হইছে খুব। 

~ বরাহশোদনে - বিস্ট্যালিটি ~

হে ছোট শূকর জেনো তোমায় খেতে মানা, মারতে মানা নেই সেই মহাজাগতিক মের্সেনারি তাই একশো বছর পথ হেটে এসেছে একেলা ডেসপারেট দুপুর রাত্রে পালিয়ে সে ভ...