Thursday october 25th, 2018, 19:00 hours
…
...
“ মানে মানুষের জ্ঞান দিয়া আমি কি বাল ফালাবো বল। ঐ সেই থেকে নিয়া এখন পর্যন্ত মানুষ জন্মায় , বুড়া হয়, মারা যায়। বিজ্ঞান দিয়ে মানুষ নিজের বুড়া হওয়ার ব্যাপারটাকে সামনের দিনে থামাইতে পারলেও মৃত্যু থামাইতে পারব না। তারপরো পারল হয়তো কোন এক কালে। মানুষ মহান এনটিটি । পারতেও পারে। কিন্তু তারপরো মানুষ অমর হবে না। তারা হত্যাপ্রিয় প্রাণী। “
“ মানে অসভ্য ? তাহলে মহান বললেন যে”
“ অসভ্যরা মহান হইতে পারত না?”
“ না কি করে স্যার? মহত্বের সন্ধান পাওয়ার জন্য সভ্যতার চূড়োয় পৌঁছাত হবে আগে। ”
“ আপনে যেমনে মহান শব্দটাকে বোঝেন আমি সেভাবে বুঝি না। আমি বলসি মানুষ এজ এন এনটিটি মহান। অর্থাৎ এই যে মানুষ অস্তিত্বমান এটা একটা মহান ঘটনা। ধরেন মানুষও একসময় জংগলে থাকসে, তাদের উৎপত্তিটা ওখানেই। তারা জংগলের জাত। কিন্তু জংগলে তারা টিকতে পারে নাই। কারণ অন্যান্য প্রাণীদের থেকে মানুষ দুর্বল। জংগল থেকে মানুষকে বাইর হয়ে আসতে হইসে। আর জংগলের জীবন আর নিয়মকানুন বাদ দিয়া তারা সভ্য জীবনরে মাইনা নিসে বলেই তারা সংখ্যায় বাইড়া পৃথিবীতে ছড়ায়ে পইরা নিজেদেরকে উন্নত প্রাণীর পরিচয় দিতে পারসে। এখানে খেয়াল করবা, তারা জংগলের জীবন ছাইড়া সভ্য জীবন নিসে কারণ তারা ছিল দুর্বল। ওরা ওখানে টিকতে পারে নাই। মনে মনে মানুষ যে যত ভালই হোক, সে ওই জংগলের জীবনই চায়।”
“ অর্থাৎ আপনি বলছেন মানুষের দুর্বলতা মানুষকে উন্নত করেছে।”
“ একপ্রকারে।”
“ আপনি অরিজিনস পড়েছেন, ঐ যে নোয়া হারিরি লোকটার নাম।”
“ নাম শুনেছি।”
“ আমি পড়েছি। আপনি যেটা বলছেন ওটা আমি মানছি না। মানুষ দুর্বলতার দরুন বাধ্য হয়ে সভ্য হয় নি। বিবর্তনের ধারায় যেই পর্যায়ে মানুষের জ্ঞান হয়েছে যে তারা মানুষ, সেইদিনই বনের জীবনকে তারা ঘৃনা করেছে। সভ্য না হয়ে মানুষের উপায় ছিল না কারণ মানুষ সভ্যই।”
“ তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে? তোমরা সেক্স করার সময় ন্যাংটা হও না? হওয়ারই কথা। এমনটা কর কারণ তুমি অসভ্য।”
“ স্যার…এসব বলবেন? সব কিন্তু থাকছে। লাইভেও আছেন কেউ কেউ আমাদের সাথে।”
“ যারা আছেন তারা কি দেখতেসেন আমাদের?”
“ জ্বি। “
“ কেমনে , ক্যামেরা কই?”
“ স্যার ডানদিকে যে পিটপিট করে লাল আলো জ্বলছে ওখানের পেছনে একটা ক্যামেরা ।”
“ কোথায় লাল আলো।”
“ বাদ দিন স্যার। আমরা আগের কথায় ফিরে আসি। “
“ না যারা ক্যামেরায় দেখতেসেন আমাকে ওনারা কি দেখছেন আমার কপালের একদিক ফেটে রক্ত পড়তেসে।”
“ স্যার। জ্বি স্যার , উনারা দেখছেন স্যার।”
“ দেইখা?”
“ দে ডোন্ট কেয়ার স্যার। সবার আগ্রহ যে আপনি কি বলবেন।”
“ আমার কথা শুনে তোমাদের কি লাভ হচ্ছে?”
“ ইটস ফ্যাসিনেটিং হাও ইয়োর মাইন্ড ওয়ার্কস, স্যার । সবাই আমরা, মানুষরা, আপনাকে বুঝতে চাই।”
“ কি আর বলব বলো। যেখান ছিলাম, তোমার গার্লফেন্ডের কথাটা বলি, তোমার গার্লফ্রেন্ড কি সেক্সের সময়…”
“ স্যার , আমরা কিন্তু এডিট করব না।”
“ সমস্যা নাই। পত্রিকা, আদালত, এসব আমি পাত্তা দেই না। তুমি আমার কথার উত্তর দাও।”
“ জ্বি স্যার । কিন্তু আপনি কি যৌনতার বিপক্ষে? সেক্সের সময় নিজেকে এক্সপোজ করতে হয়। প্রেমিকরা একারণেই পরস্পরের কাছ থেকে বিশ্বস্ততা আশা করে। মানুষ সংবেদনশীন প্রাণী, বিশ্বস্ত ছাড়া কারও সামনে সে নিজেকে এক্সপোয করতে চায় না। এক্সপোযারের ব্যাপারটাকে আপনি অসভ্য বললে তো আপনি সমস্ত যৌনতারই বিপক্ষে।”
“ আমি কোন কিছুরই বিপক্ষে না। মানুষ অসভ্য হওয়াতে আমি কোন প্রব্লেম দেখতেছি না। কারণ আমার তাদেরকে মহান স্বীকার কইরে নিতেও কোন সমস্য়া নাই। তোমার হইতেসে কারণ মানুষকে অসভ্য় স্বীকার করলেই তোমার তাদেরকে নীচুও স্বীকার কইরে নিতে হয়। মানুষ বিজ্ঞান করবে, সাহিত্য় করবে, ধর্ষণ করবে, যুদ্ধ করবে, হত্য়া করবে এই সব নিয়েই তো মানব জীবন। “
“ স্য়ার আপনার ব্য়াক্তিগত জীবনের দিকে একটু আসি। দুইহাজার তের সালের অক্টেবারের পর থেকে যে ঘটনাগুলি। মানুষের সমস্ত দোষ এবং গুণাবলীকে আপনি যে সবসময় এরকম প্য়ারালাল বিবেচনা করে থাকেন, এই বিশ্বাস কি তখন কাজ করেছিল। “
“ ঐ যে অগ্নিসংযোগ, পেট্রলবোমা? ওসব তো পলিটিকাল ব্য়াপার।”
“ কিন্তু একদল মানুষকে আরেকদল মানুষ পুড়িয়ে মারছে আপনি কি এমনটায় সমর্থন দিবেন?”
“ তুমি আমার পয়েন্টটাই ধরতে পারতেসো না। আমার সমর্থন দেয়া না দেয়া, পক্ষে থাকাথাকি এসবে কিছু তো যায় আসে না। যেই প্রজাতি হত্য়াপ্রিয় তারা সবসময়ই একে অপরকে হত্য়া কইরে থাকে।”
“ স্য়ার ২০১২ সালে আপনার যে বইটা খুব হিট করল, হাইকুর বই ছিল সম্ভতঃ “গান চড়ুইয়ের অঘ্রাণ” ?”
“ ওটা অত হিট করে নাই।”
“ পনের হাজার কপি বিক্রী হয়েছিল স্য়ার। সত্তর পৃষ্ঠার বইয়ের দাম ছিল সাতশ টাকা। একটি হাইকুর বই । সত্তর পৃ্ষ্ঠায় সত্তরটি হাইকু। যারা কিনেছেন তারা আপনার একেকটা হাইকু দশ টাকা দিয়ে কিনেছেন। আমরা জানেন স্য়ার পরে এই পনের হাজার গ্রাহককে সার্ভেইল করার চেষ্টা করেছি। ”
“ কয়জনকে পাইলেন।”
“ ছয় হাজার একুশ জনকে পেয়েছিলাম। এদের মধ্য়ে অর্ধেকের বেশী দেশে। দেশের সবাই এখনও আমাদের সার্ভেইলের মধ্য়ে আছে।”
“ আমার পাঠকদেরকে তোমরা সার্ভেইল কর? টাকা নষ্ট হইতেছে না?”
“ স্য়ার এটা একটা লিটারেরী কৌতুহল ছিল বসদের, আমারও ছিল। টাকা বলতে ইন্টারনেট খরচ।”
“ একটা বই লিখেছিলাম না “পুটকি” ? পড়েছ নিশ্চই। ওইটা তো খুব হিট করেছিল। তিনলক্ষ কপি বিক্রি করেছিলাম এক বইমেলায়। ওটার ট্রান্সলেট হইসিল পরে। ট্রান্সলেশানও ভাল চলেছিল। এটাকে বলে হিট করা।”
“ স্য়ার আমাদের কাছে আপনার সকল প্রকাশিত বই ও বই সমন্ধীয় তথ্য় আছে। এই নামে আপনি কোন বই লিখেননি।”
“ তুমি শিওর?”
“ জ্বি স্য়ার, আমি নিজেও ব্য়াক্তিগত ভাবে আপনার সবকটি বই পড়েছি।”
“ আই ডোন্ট নো বুঝছো, অনেক সময় আমার এরকম হয় যে আমি ভাবতেছি একটা বই লেখুম, কি একটা কবিতা বা গল্প , আর মনে কর যে পরে ভাবতেছি ওটা মনে হয় করা হয়ে গেছে। এইটা আমার একটু হয়। আমি যে বয়সের কারনে এমন হইসি তা না, আমি ছোট থেকেই এমন।”
“ জ্বি স্য়ার। আপনার “ গান চড়ুইয়ের অঘ্রাণ”-এ একটা হাইকু আছে …..
যেন বা হায়াসিন্থ আর হাসনাহেনা
ওরা সঙ্গম করে না
অথচ ঘ্রাণে তার এত্ত মাতাল করে!”
দুই হাজার ষোল সালের রেস্টুরেন্টের ভেতর সেই হামলাটা, গুরুত্বপূর্ণ কিছু মানুষ আর বেশ অনেকজন বিদেশী নাগরিককে হত্য়া করা হয়েছিল তখন ...আপনার মনে আছে নিশ্চই, সে সময় আমরা দুজন আত্নঘাতীর গলায় একইরকমের দুটা লকেট পেয়েছিলাম। লকেট গুলি চারকোনা। একটাকার ম্য়াচ বক্সের সমান একটি রূপালী চ্য়াপ্টা প্লেট। সেটাতে খোদাই করে আপনার এই তিনটি লাইন লেখা ছিল। লাইনগুলির উচ্চারণ বাংলা হলেও, বর্ণমালা ছিল আরবী।”
“ লকেটগুলি আছে আপনাদের কাছে?”
“ আমাদের কাছে তো নেই। আমাদের কাছে থাকবে কিভাবে?”
“ তো কাদের কাছে থাকবে?”
“ আমরা যোগাড় করার ব্য়াবস্থা করছি, আপনি দেখতে চাইলে।”
“ আচ্ছা কর। তো এই দুইজন আত্নঘাতী , ওরা তোমাদের সার্ভেইলের থাকা আমার পাঠকদের কেউ?”
“ না স্য়ার। ওনারা ছয় হাজার একুশ জনের কেউ না। এই জায়গাগুলিতেই আমাদের সমস্য়া স্য়ার। আমরা বারবার চেষ্টা করেছি আপনাকে বুঝতে। চেষ্টার পেছনে অনুপ্রেরণা প্রবল কৌতুহল, পেশাগত কারণ এইসব….”
“ রাজনৈতিক কারণ, জাতীয় নিরাপত্তার কারণ এইগুলা ছিল না?”
“ .. স্য়ার ওটা ছিল প্রেশার। অনুপ্রেরণা ছিল এগুলি। স্য়ার দুহাজার ষোল সালের পরে আমি “গান চড়ুইয়ের অঘ্রাণ” বইটা যে কতবার পড়েছি। ওখানেই আপনি ফোরওয়ার্ডে একটা কথা লিখেছিলেন যে ‘একজন সাহিত্য়িক অন্য় সকল লেখকের রূপেই সাংবাদিক হইয়া থাকেন। সাংবাদিক বাস্তব জগতে যা নীরিক্ষণ করেন তাহাই সাধারণকে জানান। সাহিত্য়িকও বাস্তব জগতকেই নীরিক্ষণ পূর্বক সাধারণের কাছে জানান, কিন্তু সেইসব জানান যা চর্মচক্ষে বোধ করা হয়ে ওঠে না সাধারণের। এ্য়াবট্রাক্ট লইয়া রিপোর্টিং করাই সাহিত্য় করা।’ এই কথাটা চমৎকার লেগেছে।”
“ আমি মদ খেয়ে লেখালেখি করি। এটা জান মনে হয়। এক বইমেলার আগে তো অসুস্থই হয়ে গেছিলাম্”
“ স্য়ার এই যে এই ব্য়াপাটায় একটু আসি, আপনি যেখানে মদ্য়পান করেন সবসময়, ঐ যে শুক্রাবাদ বাস স্ট্য়ান্ডের ওখানকার বারটায়, সেখানে আপনি বাহাত্তুর বার মারপিটের ঘটনায় জড়িয়েছেন বারের স্টাফদের সাথে। সেভেনটি টু টাইমস…
“ …আরো বেশী হবে মিয়া কি কও?”
“ …. স্য়ার। আমি যেটা বলছিলাম স্য়ার, এই সেভেনটি টু টাইমসের মধ্য়ে ধানমন্ডি থানার পুলিশকে ফোর্স নিয়ে সশস্ত্র একশানে যেতে হয়েছে এগারটি বার। একদম প্রথমবার মনে হয় প্রায় থার্টি ইয়ারস এ্য়াগো। দুজন ছিলেন আপনারা , আপনি এবং অতি সাম্প্রতিক কালে নিহত আমাদের রাষ্ট্রপতি। আপনি ধানমন্ডি থানায় যোগাযোগ করে বললেন...
“ .. আমি কোন যোগাযোগ করি নাই, তোমাদের সাইফুল স্য়ার ফোন দিসিল। আমি এরামে যাই, তোমার চেছল্লিশ বছর ধরে, ক্লাস টেনে পড়তাম, স্টাফগো লগে প্রতিমাসেই গ্য়ান্জাম করি কয়েকবার। ঐটা মাতাল হওয়ার একটা অংশ। তুমি যেই বাহাত্তুর বারের রেকর্ড দিলা সেটা খুব সম্ভব ঐ প্রথমবার ওসিরে কল দেয়ার টাইম থেকেই শুরু হইসে। সাইফুল জেলা কমিটির জিএস হইল, কোথাও গ্য়ান্জাম হইলেই পুলিশ চোদাইত। ধানমন্ডি থানার তখনকার ওসিরে ফোন দিয়া বলল , “ তুই অক্ষণ আইবি হউয়ের পো।” আমি হাত থেইকা ফোন কেড়ে নিয়ে ওসিরে বললাম “ কাউকে আসতে হবে না, এভিরিথিং ইন কন্ট্রোল...
“ স্য়ার, আপনাকে সেইবার হাসপাতালে নিতে হয়েছিল। আপনার একটা মাইল্ড কনকাশানের মত হয়েছিল। আইসিউতে এডমিট ছিলেন আপনি একরাত। স্টাফদের মধ্য়ে এক বা একাধিকজন পেপসির কাঁচের বোতল ভেঙেছিল আপনার মাথায়। ফোন দেয়ার টাইমে আপনি আর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি সাহেব যে পরিমাণ মাতাল ছিলেন আপনাদের মনে থাকার কথা না। আপনাদের দুজনের ব্লাড এ্য়ালকোহল লেভেলই ছিল জিরো পয়েন্ট দু ফাইভের ওপরে। আপনার সংখ্য়াটা আমার একদম মনে আছে, জিরো পয়েন্ট টু এইট...
“ আরে ধূ
।।।।।।।
“ আপনি তো আপনাদের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দলে তখন সেকেন্ত কমান্ড ইন কমান্ড যিনি তার সাথে আপনার একটা স্পষ্ট গ্রুপিং ছিল। আপনারই সমর্থন বেশী ছিল তখন। পরে তো এই নিয়েই আপনাদের প্রধানের সাথে আপনার গন্ডগোলটা শুরু হল বোধহয়। এই যে পনের সালে আপনি দল ছেড়ে দিলেন।”
“ দ্য়াখেন বেশীরভাগ রাজনীতি করা লোকরা নিজেদেরকে নেতা ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারে না। এই জাতীয় যারা আছেন সেরকম মানুষদের সাথে আমার কোন সমস্য়া নেই। কয়েকজন আছেন, তারা নিজেদেরকে কল্পনা কইরা থাকেন অনলি রাজনীতিবিদ , তারা খালি রাজনীতি করার জন্য় নেতার অবস্থানে থাকেন। নেতার অবস্থানে থাকার জন্য়ে রাজনীতি করেন না। এদের সাথে আমার সবসময় সমস্য়া।”
“ মানে যারা নেতার অবস্থানে থাকার জন্য়ে রাজনীতি করেন না তাদেরকে আপনি খারাপ বলছেন?”
“ খারাপ ভাল জানি না, আমার সাথে সমস্য়া। ধরেন, এই ধরণের মানুষগুলা সাইকোপ্য়াথ। তারা মানুষকে ভালবাসেন না, তাদের কাছে মানুষ হল রাজনীতি চর্চা করার গিনিপিগ মাত্র। মানুষের প্রতি এদের ভালবাসা নাই।”
“ স্য়ার অসভ্য় যারা তারা ভালাবাসা বা না বাসায় গুরুত্ব কি ?”
“ ভালবাসা একটি মহান জিনিস। সেটা সভ্য়, অসভ্য় যেই করুক। ভালবাসা নিজের মত মহান থাকে। মানুষকে ভালবাসে না যে সে রাজনীতিবিদ হওয়া ঠিক না।”
“ আপনাদের দলের প্রধান, উনি কি তাহলে মানুষকে ভালবাসতেন না?”
“ দ্য়াখেন, আমাদের দলের ক্ষমতাসীন থাকার বছরগুলির সংখ্য়া কম না। দলের প্রধান যে উনি রাষ্ট্র প্রধান থেকেছেন বহুদিন। কৌশলী রাজনীতি কইরা না থাকলে সে এমনটা পারত না। নিজের অবস্থান রাখার জন্য় সে রাজনীতি করেছে।”
“ কৌশলটি কিরকম স্য়ার?”
“ সে মানুষরে ভালবাসা দিছে , বাট সেটা তোমার মন থেইকা না, মানে সে ভালবাসাটা বোধ বা ফিল করে নাই। কারণ তার চিন্তায় আছে যে আসলে কে কি ফিল করল তাতে মানুষের কোন যায় আসে না। মানুষ দেখে যে আপনে তার জন্য়ে কি করলেন। অর্থাৎ তোমার প্রকাশটা কিরকম। আর এই প্রকাশের সাথে ফিলের এর যোগ নাই বলে ভালবাসা দেওয়ার তরে ভালবাসা বোধ করা ,তোমার জরুরী নয় সবসময়। এটাকেই কৌশল বললাম।”
“স্য়ার আপনি যেটা অনুভবই করবেন না , বোধটাই পেলেন না ,সেটা আপনি বহুদিন ধরে বিশ্বাসযোগ্য়ভাবে প্রকাশ করবেন কিভাবে? মানুষরা অনেকেই বোকা, কিন্তু সবাই তো না।”
“ কারণ বললাম যে বোধ করা আর প্রকাশ করার ভিত্রে যোগ নাই। তুমি তোমার গার্লফ্রেন্ডরে ভালবাসা , এইটা তারে জানাইবা কেমনে….
“ যেহেতু তাকে ভালবাসি , ওর সব বিপদে আপদে সাথে আছি, সুস্থ অবস্থায় আছি, অসুস্থতায় আছি ,বৃদ্ধ হয়ে যাবে তখনও থাকব, প্রয়োজনে জীবন দিতে, অর্গান ডোনেট করতে সবটাতেই রাজী আছি….
“ আমি মুভিতে দেখছি ক্রিশ্চানদের বিয়ের সময় এরকম বলে। ভা্লই কইসো তারপরো। যা হোক এই যে এই কাজগুলি বললা এগুলা ধইরে নিলাম তুমি প্রকৃত ভালবাসা বোধ করার কারণে জানতে পারসো। মানে বোধ থেকে জ্ঞানের জন্ম হয়েছে। তুমি জানতে পারলা যে কিভাবে ভালবাসতে হয়… তোমার এই লাইফ হিস্টোরী দেইখা শিখে নিয়ে আরেকজন ঠিক ঠিক একইভাবে একজন মহিলার সাথে আদর্শ প্রেমিক হিসেবে জীবন যাপন করল। মানে একেবারে শেষ পর্যন্ত, এর মধ্য়ে কোন এক পর্যায়ে মহিলারে তার নিজের একটা কিডনীও ডোনেট করে দিতে হইসে। কিন্তু সে আসলে কোনদিনই একে ভালবাসল না, সে করেছে ধর সামাজিক পারিবারিক চাপ, সন্তানদের প্রতি ভালবাসা এবং যৌনতার প্রয়োজনে। সে ক্য়ারেকটার ব্রেক করে নাই। কারণ সে জানসে সমাজ, পরিবার, সন্তান আর বৈধ যৌনতার জন্য়ে তাকে তার কাজ করে যেতে হবে। এখানেও এমন যে একজন রাজনীতিবিদ যে স্ট্রং, ক্ষমতাপ্রাণ, সে এই ক্য়ারেকটার ব্রেক না করে সব করে যাবে, দিয়ে যাবে, কিন্তু প্রকৃত ভালবাসার ঘটাতিতে খাঁ খাঁ করবে সব।”
“ স্য়ার প্রকৃত ভালবাসা ব্য়াপারটা কিরকম চাচ্ছেন আপনি। এটা কি অনুভব ,বা ফিলিংস না? মানে বোধটা কি সুখ, দুঃখ, যৌনতা ক্ষুধা বোধ এসবের চেয়ে ভিন্নরকম ? কারণ স্য়ার আমার মনে আছে আপনার একটা লেখায়, আপনার তিনশ তেইশটি বইয়ের মধ্য় একমাত্র প্রেমের উপন্য়াসটির শুরু হওয়ার আগে আপনি একটি এক লাইনের ভূমিকা লিখেছিলেন , আমি কোট করছি - ‘ভালবাসা হইল একটি ধারণা কি আইডিয়া মাত্র। একটি কনসেপ্ট, এত মধুর এক ধারণা যাতে বিশ্বাস করিতে পরাণের প্রবল সুখ হয়।’ মানে স্য়ার বলছেন যে ভালবাসা হল একটি ধারণাতে বিশ্বাস করা? আর বিশ্বাস থেকে বোধ তৈরী হচ্ছে আমার ভেতর? ভালবাসা তাহলে সুখ দু:খের মত মৌলিক না?”
“ কোনদিনও ভালবাসা মানুষের বেসিক বোধ দুটি মানে সুখ বা যন্ত্রণার মত না। ভালবাসা সুখ, যন্ত্রণা এসব থেকে জ্বালানি পায়। সুখ আর যন্ত্রণার সাথে সম্পর্কিত ক্ষুধা আর যৌনতাও ভালবাসাকে উৎসাহিত করে। কিন্তু আসলে এটা একটা কনসেপ্ট। এখানে আবারও আগের কথাটা বলি তোমারে , মানুষ হত্য়াপ্রিয় প্রাণী। একটা দুর্বল এবং দু্র্বলতার দরুন বাধ্য় হয়ে সভ্য় ও উন্নত হওয়া প্রাণী। ভালবাসা যদি প্রাণীকূলের জন্য় সুখ বা যন্ত্রণার মত কোন বোধ হইত , তাহলেই “হত্য়া” বা “ধর্ষণ” মত বিষয়ের অস্তিত্বই থাকত না ব্রক্ষান্ডে। অন্য়সব বিশ্বাস থেকে পাওয়া বোধের মত ভালবাসা একটি চয়েস। তুমি মমতবান ধরণের মানুষ হলে ভালবাসার কনসেপ্টকে গ্রহণ করলে তোমার অন্তরে প্রবল সুখের অনুভূতি হবে। তুমি এরোগ্য়ান্ট, ক্ষমতাপ্রাণ মানুষ হইলে সেটা হবে না। সেখানে ভালবাসার কনসেপ্টে বিশ্বাস করতে গেলে তোমার নিজেকে বোধ হবে দুর্বল, লক্ষ্য়চ্য়ুত। সেক্ষেত্রে তুমি এই কনসেপ্ট বর্জন করবা। কিন্তু সমাজে বসবাসের প্রয়োজনে, রাজনীতি চালানোর প্রয়োজনে তোমাকে দেখাইতে হবে যে তুমি বিশ্বাস কর।”
“
।।।।
“মানুষের জীবন এই তোমার পিপড়ার জীবনই, অনুজীবের জীবনই। তোমার কাছে আমার কাছে যতটুকু গুরুত্ব আছে, ততটুকুই। এর বাইরে কিছু নাই। আমাদের বর্তমান হওয়াটা একটা বিশাল ঘটনা, মহানও হয়তোবা, কিন্তু এইসব বিশাল বা মহান এসবও আমাদের বানানো ধারণা। বিশাল বা মহান বলে কিছু হয় না।”
“ তাহলে এখন আবার বলছেন মহান বলেই কিছু নাই?”
“ খুব বেশী হলে একটি জিনিসকে তুচ্ছ ভাবা যাইতে পারে। কিন্তু কিছু একটাকে তুচ্ছ ভাবলেই ওটাকে মহান ভাবারও একইরকম সুযোগ তৈরী হয়। আমার কাছে এসব ধারণাই অবান্তর। আগে বলেছি তোমার বোঝার সুবিধার জন্য়। আমি আসলে মহান টহান এসবে বিশ্বাসই করি না।”
।।।।