সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯

কবিতা- ২০১৮

টিন এজ বয়স ঘেইকা লালান কটা কিছু ধারণা
আজ শ্বাপদ হইয়া যেনবা স্বপ্ন হিংস্র অবাস্তব
আমার চতুর্পাশে জীবন্ত ঘোরাঘুরি  করে
মনে লয় মারব আমারে হাউয়ার পোলারা
খাইব
আমি এক বিমূর্ত কৈশোরে বাঁচি
যেন এক সী-গাল, আয়ু হইয়াছে ছাব্বিশ
ঠোঁটে কত সহস্র মতসের ঘ্রাণ লেগে আছে
অনুস্বরের ঘ্রাণ,
হোয়াইমি লেটব্রো অটামের এই শেষ
রাত্তিরে
শীত এসে যায় ভবে
নাম জানি না, কবুতরের ঝাঁক বা হাস টিয়াপাখি কি মুরগী আর পেঙ্গুইন রা
আকাশ থিকা ঝাঁক বাইন্ধা  নামিতেছে
এই এক,  থ্যানোযের অপেক্ষারত এক শহরে।

যেন আকাশের দিকে মুখ করে শুয়ে থাকার তরে
জন্ম হয় আমার, এই আজন্মের সাধ শুধু শুয়ে থাকা
কোনদিন মধ্যাহ্নের ছাদে
কোনদিন নারিকেল গাছেদের নীচে 
নারিকেল  দ্বীপের হাওয়ায় হাওয়ায় হৃদয় নড়ে ওঠে- শীতল স্বচ্ছ হয় কাঁচের মত
কচি নারিকেলের জল খেয়ে, আমার এইসব শুয়ে থাকায়
ব্রহ্মাণ্ড নিজ অস্তিত্বে সার্থক হয় 
যখন আমার আকাশের দিকে চেয়ে থাকা চোখের সম্মুখে - নক্ষত্ররা লজ্জায় মরে যায়,
এইযে এসব শরতের স্পষ্ট সরল রাতে


যিনি আমার মা
তিনি মারা যাচ্ছেন
কাঁচের তৈরী হাসপাতালের কেবিনে
বরফযুগের শীতলতা
জানালার গায়ে বিন্দু বিন্দু ঘাম
চারপাশে চিরকাল বিরাজমান মৃত্যু
ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে উঠে
এত গোছানো ক্যাসুয়াল মৃত্যুকে দেখে বুঝি
সে কোত্থেকে আসছে এমন না ব্যাপারটা
এখানেই ছিল
চিরকাল
বিরাজমান
এখন শুধু সে প্রকট হয়
চারপাশে আঁধার
কিচ কিচ করে বাদ্যরত মেশিন গুলায়
লাল,  সবুজ, হলুদ আলো রেখা আর সংখ্যারা
প্রকাশিত মৃত্যুকে দেখে আতংকে অস্থির হয়ে
লাফালাফি করে
আমি চিৎকার করি “নার্স নার্স নার্স!’’
তিনি যিনি নার্স তিনি চাইনিজ যার ছোট ছোট দাঁত সুন্দর
মায়ের কম্পমান কনভালসানরত দেহখানির কিনারে
দন্ডায়মান
ক্যাজুয়াল মৃত্যুতে অভ্যাস্ত তিনি হাস্যরত
যেন  এই মরণের ফ্রেন্ড তিনি
আমি শুধাই,” নার্স আর কতক্ষণ….”


শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৯

কবিতা ২০১৮ ডিসেম্বর -২০১৯

আমরা 


আমি আর তিনি মিশি
সন্ধ্যাকালে, রিক্সায় রাস্তায়, হাঁটতে হাঁটতে
আমরা শুধু মিশি
মিশে রং হই
আমাদের দিয়া ছবি আঁকে একটা লোক
দুজন মিলে আমরা ছোট্ট একটা জলের ফোঁটা হয়ে
ঝুলে থাকি গ্রীল থেকে
কার বারান্দার জানি  

আমি বিড়ি ধরাই 

আমি বিড়ি ধরাই,
তাই বাতাস ওঠে যমুনায়
জলের অতলে তার বহু আগের রাধা
এতদিনে মাছেরা খেয়ে ফেলেছে
আর সেইসব মাছদের খেয়ে ফেলেছে অন্য মাছরা
তাও তো বাতাসে এদ্দিন পরেও কেমন একটা রাধা-রাধা ঘ্রাণ
আমি বিড়ি ধরায়ে শ্যাম হইসি জেষ্ঠ মাসের ছাদে

বাহিরে উৎসব

বাহিরে উৎসব
চায়ের দোকানের বড়ভাইরা গুলি দেয় রাস্তায়
জংলী জানোয়ারদের বাদ্য়যন্ত্র মাতাল হয় বাজনায়
বোধ শক্তিহীন বরাহেরা অসম্ভব উল্লাসে কাঁপে
তাদের দেখে এই এক পৌষের রাতে বিচলিত
যত নক্ষত্র
আর একই রূপে প্রবল বিচলিত,
আমি - খুব মার খেয়ে পালিয়ে আসা এক লোক
গৃহের ছোট বড় সব জানালা বন্ধ করে
লুকিয়ে কম্বলের নীচে বসে বসে আঙুলে ঈশ্বর গুনি -  
শুনি,
বাহিরে বরাহের উল্লাস
উল্লাস বোধশক্তিহীনের
সমাগত যুদ্ধের ধ্বনি
চায়ের দোকানের বড়ভাইরা
রাস্তায় গুলি দেয় ; 

প্রোটিনের অক্ষরমালা

অযুত নিযুত সহস্র বছর আগে আমি রচিত হই
প্রোটিনের অক্ষরমালায় -
কথা ছিল ফুল হয়ে ফুটব বলে,
পৃথিবীর অনেক দূরের কোন জঙ্গলে -
আর তারপর
ফেরেশতাদের কলহে
সিস্টেম সংসারের চিরন্তন সেই,
গণতান্ত্রিক গোলযোগে ; -
কুড়ি ভেঙে বেরিয়ে আসি আমি
একরাশ হসন্তহীন অন্ধকার 

সাতাশ

ইদানীং সবাই-ই এরকমটা বলতেসেন -
যে অনেকদিন তো হল
অনেক তো হল
দিন তো চলিয়া গেল বহু, আপনার
আমি শুনেও-না-শোনার-ভান-ধরার-ঝামেলাতেও যাই না সেভাবে
ইদানীং -
রাস্তায় বসে থাকি, দেখি রৌদ্রের আসা যাওয়া
রাতের ফাঁকে ফাঁকে দিন হওয়া
আমার সামনে সামনেই শিশুরা জন্মায় বুড়া হয়ে মরে যায়
রেখে যায় নতুন শিশুদের
যেন তারা পৃথিবীর মাটিতে আবারও আপেল আর আনারসের বীজ বুনে দিতে পারে
যেন লক্ষ্য বছরের পুরাতন নক্ষত্রদের নতুন নতুন নাম দিতে পারে
যেন তারা আবার রেখে যায় নতুন শিশুদের
সকালে উঠে দেখি সেদিন আমার আব্বাও অনেক বৃদ্ধ হয়ে গেছেন
তার রূপালী দাড়ি থেকে ঠিকরে ঠিকরে জোসনার মত আলো আসে
উনিও বলতেসিলেন যে আমার তো অনেক দিন হল -
আর আমি শুনতেসিলাম কি শুনতেসিলাম না এইররকম
দেখতেসিলাম বারান্দার এসে পড়া রৌদ্রের দিকে
যার বয়স আমার মনে হল যে কই এক সেকেন্ডও তো বাড়সে বলে মনে হয় না
আর এদিকে আমার যে কখন সাতাশ বছর বলে গেছেগা। 

~ বরাহশোদনে - বিস্ট্যালিটি ~

হে ছোট শূকর জেনো তোমায় খেতে মানা, মারতে মানা নেই সেই মহাজাগতিক মের্সেনারি তাই একশো বছর পথ হেটে এসেছে একেলা ডেসপারেট দুপুর রাত্রে পালিয়ে সে ভ...