এখন প্রফেসরকে দেখা যাচ্ছে। ছাদে।
তিনি
চেয়ারে বসছেন। চেয়ারটি প্লাস্টিকের এবং নীল। প্রফেসর না থাকলে চেয়ারটা দেখা যাইত
না এই গল্পে। প্রফেসরকে চেয়ার অপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা যায়। তিনি বললেন
-
ব্রক্ষান্ডের মাঝে
একবিচারে হিউমেন লাইফের তেমন কোন গুরুত্ব নাই বুঝলা। যদি না আমরা নিজেরা এর উপর
গুরুত্ব আরোপ করি। গুরুত্ব মাত্রই তাই আরোপিত।
তিনি তাকালেন ডানদিকে। সেদিকে একটা
লেবুগাছ। লোহার বড় ড্রামে গাছটি বর্তমান রইছে। লেবুগাছের সামনে, ছাদে এখন আরেকজন লোককে
দেখা গেল। লোকটি কোটপরা।
নতুন লোকটি বলল
-
তাহলে আপনে বলছেন
যে সুসাইড করাটা খারাপ কিছু না?
-
একবিচারে না।
তোমার ভাল্লাগতেছে না , আর সমাধান কিছু তো নাই।
নতুন লোকটির বয়স কম। তার চুলগুলো সব কাল
আর কোটটির রং গাঢ় বাদামী। সে বলল যে,
-
খোরশেদ সাহেবও কি
একই ভাবে চিন্তা করেন?
ছাদে, এখন খোরশেদ সাহেবকে দেখা যাচ্ছে।
তিনি খুব লম্বা। গায়ে পান্জাবী। তিনি মনোযোগ দিয়ে ছাদের কার্নিশে বসা একটা কাক
দেখছেন। ছাদে একটি কাক আছে। আরও কাক ছিল কিনা আমরা জানি না , কারণ খোরশেদ সাহেব
তাদের প্রতি মনোযোগী হন নাই। তিনি প্রফেসরকে বললেন,
-
ব্রক্ষান্ডের
গুরুত্ব আরোপিতই হইছে কারণ এতে হিউমেন লাইফ একসিস্ট করে। আপনার থিওরী বা লজিক যাই
বলেন না কেন, ওতে ভুল আছে।
প্রফেসর দুরে বিল্ডিঙের সারি দেখতেসিলেন।
ফাগুনের মধ্যবর্তী সময়েও কেন দূরে কুয়াশা কুয়াশা হয়ে আছে এই নিয়ে তার চিন্তা
হচ্ছিল। এখন বিকাল। রোদে সোনালী ভাব প্রকাশিত হইছে। তাঁর মনে হল ফাগুনটা মন্দ নয়
এবার। তাঁর কোন কিছুকেই ভাল মনে হয় না। সর্বোচ্চ মনে হয় মন্দ নয়। তিনি খোরশেদকে
বললেন কথাটা। খোরশেদ বলল
-
মন্দ নয় আবার কি?
আমার দেখা বেস্ট ফাগুন এইটা।
নতুন লোকটি বললেন
-
তাহলে কি খোরশেদ
ভাই সুসাইড করবেন না?
-
আমি তো কখনই
সুসাইডের কথা বলি নাই। সুসাইড ইজ ফর লুজারর্স।
-
সুসাইড করার জন্যে
সাহস ও দর্শনের প্রয়োজন। আপনার সেটা নেই।
খোরশেদ সাহেব হাসলেন। বেশ জোরে। কাকটি
উড়ে গেল।
প্রফেসর লেবুগাছের ব্যাপারে আগ্রহী হলেন।
নতুন লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন যে লেবুগাছটি কার এবং ছাদে আরও লেবুগাছ আছে নাকী, আর বছরের
কোন কোন সময় লেবু হয় আর ছাদের গাছটির লেবু সে কখনও খেয়ে দেখেছে কিনা। নতুন লোকটি
বিরক্তি ঘটে। সে আত্নহত্যা বিষয়ে চিন্তা করে এমন লোক। তার চিন্তা জগতে লেবুগাছ
সামন্জস্যপূর্ণ নয়। সে নিজেকে প্রকাশ করে এভাবে যে,
-
আমি লেবু খাই না।
কথাটি অসত্য। কাচ্চী বিরিয়ানী সে কখনও
লেবু ছাড়া খায় না। প্রফেসর বললেন
- আত্নহত্যা নিয়ে তুমি যে একটু আগে
বললা না দশর্ন আর সাহসের কথা এটা ঠিক বল নাই। মানুষের সব দর্শনতত্ত্বগুলোর প্রবণতা হল তোমাকে জীবনের
প্রতি আগ্রহী রাখা। নট ডেস্ট্রয়িং ইট। আর সাহস আর ইনসেনিটির ভিতর ডিফারেন্স আছে।
নতুন লোকটি দুরে তাকিয়ে বলল
-
স্টোয়িকদের দর্শনে
সুসাইডের কথা আছে। জীবন একটা উৎসবের মত। যার ভাল্লাগব না, তার জন্যে দরজা খোলা
আছে।
-
ব্যাড ইউজ অফ
স্টোয়িসিজম। স্টোয়িকরা বলে যে, সব ধ্বংসাত্নক অনুভুতির জন্ম বিবেচনার ভুল থেকে।
সুসাইড ধ্বংসাত্নক অনুভুতি। সুতরাং কোন জায়গায় তোমার বিচারের ভুল হচ্ছে।
খোরশেদ ছাদের কার্ণিশে পা ঝুলায় বসে বলল
-
আপনে আপনার প্রথম
কথার কন্ট্রাডিকশনে গেলেন। অগুরুত্বপূর্ণ হিউমেন লাইফে দর্শন থাকনেরই তো কোন মানে হয়
না।
বাকী দুজন নীরব। তারা আসলে এখন খোরশেদের
প্রতি মনোযোগী। খোরশেদ যেকোন মূহুর্তে ছাদ থেকে পড়ে যাবে বলে তাদের মনে হয়। সুক্ষ
উত্তেজনা বোধে তারা আক্রান্ত হন ফাগুনের বিকেলে। এই উত্তেজনা শুধু তাদেরই হয়।
আশেপাশের বসন্ত আরোপিত ব্রক্ষান্ড অপরিবর্তিত থাকে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন