শুক্রবার, ২ এপ্রিল, ২০২১

কোভিড-১৯ নিয়ে চমস্কি : নব্য-উদারপন্থার ভরাডুবির কাহিনীতে নতুন অধ্যায়

 কোভিড-১৯ নিয়ে চমস্কি : নব্য-উদারপন্থার ভরাডুবির কাহিনীতে নতুন অধ্যায়

Dated: Apr 25, 2020 (updated:  May 7, 2020)

লিখেছেন : ক্রিসটিনা ম্যাগডেলানো

বঙ্গানুবাদ : সালেহ মুহাম্মাদ

করোনার মহামারিকালের সবচেয়ে গুরুতর শিক্ষাটি নোয়াম চমস্কি আমাদের জানিয়েছেন। তাঁর মতে,  “ পুঁজিবাদের নব্য-উদারপন্থী সংস্করণের আরেকটি ভীষণ ব্যার্থতাকেই ” উপস্থাপন করল এই সংকট। এবং, ওয়াশিংটনে “ বসে যেই জনসম্পর্কহীন উন্মাদ সঙ-গুলি সরকার  চালাচ্ছেন” তারা আরও খারাপ করে তুলছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি।

ম্যাসাচুসেট ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক থাকাকালীন ভাষাতত্ত্বে বিপ্লব সাধন করেন নোয়াম চমস্কি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মনীষী-বুদ্ধিজীবি, ২০১৭ সালের শেষভাগে এ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টিতে যোগদান করেন। “ইউর্যাকটিভ EURACTIV ” এর বন্ধু ‘ইফে’-এর সাথে তিনি আলাপ করছেন তার টাসকোনের বাড়ি থেকে।

আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম কোভিড-১৯ এর দুর্যোগ থেকে কি শেখা যেতে পারে। উত্তরে চমস্কি আমাদের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ব্যাবস্থার ব্যার্থতাগুলির দিকে নির্দেশ করলেন।

“ একটা শিক্ষা তো বোঝাই যাচ্ছে। আপনাদের পুঁজিবাদের নব্য-উদারপন্থী সংস্করণটা আবারও চরমভাবে ব্যার্থ হল। মারাত্নক ব্যার্থ। এর থেকেও যদি আমরা না শিখি তো পরেরবার আরও বাজে , নিকৃষ্ট ধরণের পুনরাবৃত্তি দেখতে পাবেন।”

“ ঘটনায় কোন লুকোছাপা নাই। ২০০৩ সালে আপনার সার্স মহামারি হল। আমাদের বিজ্ঞানীরা ভাল করেই জানতেন এরকম আরও বহু মরামারি আসছে সামনে। সম্ভবতঃ এই করোনা ভাইরাস ঘরানারই বিপর্যয় সেগুলি। তখন কিন্তু প্রস্তুত হওয়ার একটা সুযোগ ছিল আমাদের। যেভাবে ‘ফ্লু’র ব্যাপারে করা হয়। প্রতি বছরই ফ্লু’র একটা করে নতুন টীকা বাজারে আসে। কারণ সব বছরের ফ্লু একরকম না। কিন্তু আপনার প্রস্তুতি থাকে বিধায় দ্রুত টীকা বানিয়ে ফেলতে পারেন।”

“ কিন্তু এরা দ্যাখেন, সেটা করল না। কারও একজনকে তো বল পায়ে দৌড়াতে হবে।”



“ সম্ভাবনা দু’টো। এক হল আপনার ওষুধ কোম্পানীরা। এদের সম্পদ আছে। ওদের বানানো যে মণিমানক্যের পেছনে আমরা এত এত টাকা খরচ করছি, সেগুলি দিয়ে ওরা অনেক ধনী হয়েছে। তারা কাজটা করবে না। ওরা বসে বসে মার্কেট পর্যবেক্ষণ করবে। মার্কেট পর্যবেক্ষণ করলে দেখবেন একটি সমাগত মহাবিপর্যয়ের জন্য মানবজাতিকে রণসজ্জিত করে আপনার কোন ব্যাবসায়িক মুনাফা নেই।”

“ আর তার ওপর নেমে আসছে নব্য উদারপন্থার হাতুড়ী। যে, আপনার সরকারগুলির কিচ্ছু করার অনুমতি নাই। মানে সরকাগুলিই আপনার সমস্যা, এরা কোন সমাধান না।”

“ওয়াশিংটন চালাচ্ছে যেই মাস্তানের দলটা, ওদের কারণে পুরা যুক্তরাষ্ট্র এক ভয়ংকর বিভীষিকায় রূপ নিয়েছে। দুনিয়ার অন্য সবাইকে দোষারোপের বিদ্যা তাদের রপ্ত। সমস্যা হচ্ছে নিজেদের দোষ কিভাবে দেখতে হয় সেটি এরা একদমই জানেন না। এই মহাবিপর্যয়ের দায়ভার এদের। আপনার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তো ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রবিন্দু। একমাত্র রাষ্ট্র যেটি এতই অক্ষম এবং ত্রুটিপূর্ণ যে আক্রান্ত আর মৃত্যের সংখ্যার সাধারণ তথ্যটা পর্যন্ত ওয়ার্লড হেলথ অর্গানাইজেশানকে দিতে পারছে না।”

সমস্যা অভিমুখে ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রগমনকে বর্ণণা করতে গিয়ে চমস্কি বলছেন “ বাস্তব বিবর্জিত”।

“ তো ফেব্রুয়ারিতে দ্যাখেন, আপনার মহামারি মহাক্রোশে ধেয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের প্রত্যেকে বিপদ বুঝতে পারছে--। সেই ফ্রেব্রুয়ারীর ঠিক মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প তার পরবর্তী বছরের বাজেট নিয়ে হাজির। এই বাজেটের দিকে লক্ষ্য করা বেশ জরুরী। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সম্পর্কিত খাতে বরাদ্দ আরও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। একটা মহামারির মাঝখানে তারা স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ কমিয়ে দিলেন! টাকা বাড়ালেন কোথায়? ফসিল ফুয়েল ইন্ডাস্ট্রিতে। সামনের দিনে যাতে মানুষের সুশৃঙ্খল জীবনের আরও বারোটা বাজানো যায়। ও আচ্ছা, আর টাকা পাচ্ছে হল সামরিক বাহিনী। যারা ইতিমধ্যেই পাতেরটা খেয়ে কুলাতে পারছে না। বিশৃঙ্খল , নিয়ন্ত্রণহীন এই বাহিনীকে ট্রাম্প আরও টাকা দিচ্ছেন। সেই সাথে ওর জগদ্বিখ্যাত দেয়ালের জন্য আরও বরাদ্দ তো হয়েছেই।”‌

“ এর থেকে আপনি একটা ধারণা পাচ্ছেন। যে, যেই সমাজ-বিদ্বেষী উন্মাদ ভাঁড়ের দল সরকার চালাচ্ছে তাদের স্বভাব চরিত্র কেমন এবং সেই কারণে এই দেশকে কতটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

“ এখন তারা দিশেহারা হয়ে দোষ দেয়ার লোক খুঁজে বেড়াচ্ছেন। একবার চায়নাকে ধরেন, তো আরেকবার ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশানকে। আর তারা যা করছে সেটা মূলতঃ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। তো, আপনি ওয়ার্লড হেলথ অর্গানাইজেশানকে টাকা দেয়া বন্ধ করে দিবেন। এর মানে কি? ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশান গোটা দুনিয়া নিয়ে কাজ করে। মাতৃস্বাস্থ্য, ডায়রিয়ার মৃত্যু এগুলি তাদের মূল বিষয়। আপনার কথাটা তাহলে এমন হচ্ছে যে, ‘ ঠিক আছে, চল আমরা দক্ষিণে অনেকগুলি মানুষকে মেরে ফেলি, কারণ তাতে করে আমার ইলেকশনের জন্য সুবিধা হতে পারে।’

ট্রাম্প প্রথমদিকে করোনা ভাইরাসের বিপদটিকে ক্ষুদ্রকরণের চেষ্টা করছিলেন। তবে পরবর্তীতে তাকে দুর্যোগ মোকাবেলাকারী একজন নেতার ভূমিকা গ্রহণ করতে দেখা যায়। যদিও ঘটনার ব্যাপারে নিজের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ভুল করার বিষয়টি তিনি আর স্বীকার করেন নি।

“ ট্রাম্পকে আপনার কৃতিত্ব না দিয়ে উপায় নেই। ধোঁকাবাজির বিদ্যায় তিনি গুরুস্থানীয়। এত বড় প্রতারক এই মর্ত্যে আর কেউ বর্তমান হননি আগে কোনদিন। পিটি বার্নামকে ওর সামনে আনাড়ির মত দেখায়। তার পক্ষে খুবই সম্ভব যে তিনি একহাতে ব্যানার উঁচিয়ে রাখবেন ‘ ভালোবাসি আপনাকে। আমি রক্ষক আপনার। আস্থা রাখুন আমার ওপর। আমার দিবারাত্রির সমস্ত শ্রম শুধুমাত্র আপনারই জন্য’ আর অন্য হাতটি দিয়ে আপনাকে ছুড়ি মেরে দিলেন। এ ধরণের ঘটনায় তিনি বেশ সক্ষম। ওকে যেসব লোক ভোট দেয়, তাদের সাথে তো এ-ই করে আসছেন। ঐ লোকগুলিও আবেগে অন্ধ এবং পাগল। ওদের ভালবাসা কাজ , তারা ট্রাম্পকে ভালোবেসে যায়। ভোট দেয়া, সমর্থন করা প্রয়োজন মনে করে, তাই করে যায়। ট্রাম্প কি করে না করে তাদের কোন যায় আসে না। আর এই প্রতারণার কাজে ট্রাম্পকে সাহায্য করার জন্য মিডিয়াতে একটি বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে। একটি সমন্বিত শক্তি আবির্ভুত হয়েছে। ‌এরা হচ্ছে ফক্স নিউজ, ‘রাশ লিম্বাও’ এবং ‘ ব্রিটবার্ট সেগমেন্ট’ - মিডিয়ার যেই একটা মাত্র অংশের দিকে রিপাবলিকানরা চেয়ে থাকেন।”

“ ও যা বলবে এরা তার প্রতিধ্বনি তুলবেন। আজকে যদি ট্রাম্প বলেন, ‘ ‌এটা সামান্য সর্দি জ্বর, ও নিয়ে ব্যাস্ত হবেন না’ ওরাও বলবে, ‘ ঠিক ঠিক, এটা সর্দি-জ্বর, একদম মাতবেন না।’ পরদিন যদি আবার সে বলে ‘ এটা ভয়ঙ্কর এক মহামারি। আমিই প্রথম একে শনাক্ত করি,’ তখন এরা সমস্বরে চিৎকার করবে : ‘ উনি ইতিহাসের সবচেয়ে মহৎ ব্যাক্তি। ওনার এই আবিষ্কারের চেয়ে মহান কিছু কেউ আবিষ্কার করেননি কোনদিন।”

“ দিনের পর দিন এমনটাই তো চলছে। ওদিকে ট্রাম্প নিজেও সকালবেলা ফক্স নিউজ দেখেন। তারপর সিদ্ধান্ত নেন আজকের দিনে কি বলবেন। এখানে মুগ্ধ হয়ে দেখার মত একটি বিস্ময়কর ঘটনা ঘটছে : রুপার্ট মাডরোখ, রাশ লিম্বাও আর হোয়াইট হাউজের এই পাগলটা পুরো দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।”

আমরা জানতে চাই মানুষ এখন যেভাবে প্রকৃতির সাথে আচরণ করে, করোনা মহামারির কারণে তার কোন পরিবর্তন হবে কি না। চমস্কি বলেন এই প্রশ্নের উত্তর দিবেন তরুণরা।

“ এখানে ভবিষ্যদ্বাণী করার কোন উপায় নেই। নির্ভর করে বিশ্বের আপামর জনসাধারণ থেকে কিরকম প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে, তার ওপর। একটি অত্যান্ত কঠোর কর্তৃত্ববাদের সূচনা হতে পারে। রাষ্ট্রগুলি দমনমূলক হয়ে উঠবে। নব্য-উদারপন্থার ব্যাধিকে আরও ছড়িয়ে দেয়া হবে। আসলে ঠিক করে বললে ওরা এই মূহুর্তে ঐ উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ করছে। একটা কথা মনে রাখবেন, পুঁজিবাদী শ্রেণীটি অবিশ্রান্ত নির্মম। এদের সংগ্রাম কখনও শেষ হয় না। এই এত কিছুর মাঝখানে, তারা জ্বালানি তেলের জন্য আরও বরাদ্দ চাচ্ছে। যে নিয়মগুলি কিছু মাত্র সুরক্ষা দেয়, পাঁয়তারা চলছে সেগুলিও ধ্বংস করার।”

“ মাত্র গতকালের কথাই ধরুন। জানেনই তো, ট্রাম্পের শাসনে মার্কিন পরিবেশ রক্ষাকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই কয়লা ব্যাবসায়ীদের অধীনস্থ একটি সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তো এই সংস্থা এমন কিছু আইনকে বাতিল করল যেগুলি, কয়লা কারখানার আশেপাশের মাটিতে শীশা এবং অন্যান্য দূষিত বর্জ্য ফেলাকে নিষিদ্ধ করে রেখেছিল এতদিন। মানেটা তাহলে দাড়াচ্ছে, ‘ চলুন আমরা আরো বেশী করে আমেরিকান শিশুদের হত্যা করি এবং পরিবেশ ধ্বংস করি - কারণ এভাবে কয়লা কোম্পানীগুলির মুনাফা তৈরী করতে সুবিধা হয়।’ যার ফলে, বলা বাহুল্য পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছেই। এদের কাজই তো তাই। প্রতিদিন তারা আমাদের পৃথিবীকে আরেকটু বসবাসের অযোগ্য করে তোলেন। কোন থামাথামি নাই। তাদেরকে প্রতিরোধ করার মত কোন শক্তি যদি না আসে, এই পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে।”

কোভিড-১৯ এর ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্যগুলি নিয়ে তুলনা করতে গিয়ে, চমস্কি ইউরোপ ইউনিয়ানের  সংহতিমূলক মানসিকতার অভাবকে দোষ হিসেবে চিহ্নিত করলেন।

“ যদি লক্ষ্য করেন, আন্তর্জাতিক ভাবে যা ঘটছে সেটি বেশ চমকে যাওয়ার মতই।”

“ জার্মানি এই সংকট বেশ ভালভাবেই মোকাবেলা করছে। তাদের উদ্বৃত্ত হাসপাতাল রয়েছে, উদ্বৃত্ত পরিমাণে রোগ নির্ণয়ের ব্যাবস্থা রয়েছে। কারণ তারা এই জায়গাগুলিতে নব্য উদারপন্থার অনুসরণ করতে যাননি।”

“ ইটালির অবস্থা বেশ খারাপ। তাদের মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এরা কি জার্মানির কাছ থেকে সাহায্য পাচ্ছে? যাইহোক, সাহায্য তারা পাচ্ছে বটে। যেটা আনন্দের কথা। আর সেটি পাচ্ছেন আটলান্টিকের ওপারের ‘মহাশক্তি’ কিউবার কাছ থেকে। কিউবা ডাক্তার পাঠাচ্ছে। চায়না পাঠাচ্ছে সরঞ্জাম। তাতে কিছু সাহায্য হলেও তো পাচ্ছেন মানুষগুলি। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ানের বড়লোকদের কেউ তো কোন সাহায্য করল না। এখানে ভাববার বিষয় আছে।”

“ সত্য বলতে, একমাত্র দেশ যেটি এখন অবধি প্রকৃত আন্তর্জাতিক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে - সে হল কিউবা। এবং সেটি কিউবার জন্য নতুনও নয়। এই ব্যাপারটা নিয়ে তো আমাদের ভাবা উচিত। ষাট বছর ধরে কিউবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের শিকার। তাদের অর্থনীতির গলা টিপে ধরা হয়েছে। বিশদ পরিসরে সেখানে ছড়িয়ে পড়েছিল আতংকবাদ। তারপরও দেখুন, কি এক ঐশ্বরিক কৃপায়, কিউবা ঠিকই টিকে গেল। শুধু টিকেই রইল না, বাকী দুনিয়াকে দেখিয়ে দিল এবং দেখিয়ে চলেছে আন্তর্জাতিক হওয়া কাকে বলে।”

“ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে তো আপনি এসব কথা বলতে পারবেন না। মার্কিন রাষ্ট্রে আপনি যেটা করবেন হচ্ছে যে কিউবাকে দোষ দিবেন, গালিগালাজ করবেন। বলবেন যে কিউবায় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। আর তা সত্যও বটে। গোলার্ধের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মানবাধিকার লঙ্ঘন কিউবাতেই হয়ে থাকে। সেটি ঘটে হচ্ছে দক্ষিণপূর্ব কিউবায়। জায়গাটার নাম ‘গুয়ান্তেনামো’। সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা। কিউবার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তারা এটি দখল করে নিয়েছিল। এখন আর ফেরত দিতে চাচ্ছে না। কিন্তু এসব কথা তো আবার বলা যাবে না।”

“ লক্ষী ভদ্র বাধ্যগত নাগরিকের কাছ থেকে আমেরিকা ভিন্ন কিছু শুনতে চায়। আপনার জন্য শোভন হবে চায়নাকে দোষ দেয়া। ‘হলুদ আতংকে’র কথা টেনে আনবেন। এ বড় গহীন, প্রাচীন বিষয়। চায়নিজরা ঐ আসল বলে। আমাদের খেয়ে ফেলবে। ইতিহাসে সেই উনিশ শতক পর্যন্ত এই চায়নিজ ভীতি টের পাওয়া যায়। যখন খুশি টেনে আনতে পারেন এর কথা।”

“ প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল (বা প্রগতিশীল আন্তর্জাতিকতার) আহ্বান করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই আহ্বানটা বার্ণি স্যান্ডার্স করেছেন। ইউরোপে করেছেন ইয়ানিস ভ্যারুফাকিয। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, আর সার্বজনীন দক্ষিণ থেকে বিভিন্ন প্রগতিশীল উপাদানগুলিকে তারা একত্রিত করতে চাচ্ছেন। এর একটি প্রধান উদ্দেশ্যে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আপনার হোয়াইট হাউজে যে রিআকশনারী ইন্টারন্যাশনাল (বা প্রতিক্রিয়াশীল আন্তর্জাতিকতায়) শাণ দেয়া হচ্ছে, ওকে রুখে দিতে চাচ্ছেন এরা।”

চমস্কির অনুসারে, ট্রাম্প প্রশাসন সমস্ত “ তীব্র প্রতিক্রিয়াশীল বর্বরতম রাষ্ট্রগুলিকে” একত্রিত করতে চাচ্ছেন। এর মধ্যে গালফ অঞ্চলের তেল সম্রাটগণ, আল-সিসি’র ইজিপ্ট, মোদীর ইন্ডিয়া, ডানপন্থী-চালিত ইসরায়েল এবং ভিক্টোর অর্বানের হাঙ্গেরী ছাড়াও এরকম অন্যান্যরা আছেন।

“ বাস্তবঘনিষ্ঠ আশা একটাই। বার্নির তৈরী করা প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল। এই ছাড়া অদূর ভবিষ্যতের আর কোনকিছু আমাকে সেভাবে আশান্বিত করে না। লোকজন বলাবলি করছেন স্যান্ডার্স ক্যাম্পেইন ব্যার্থ হয়েছে। কথাটা খুবই ভুল। স্যান্ডার্স ক্যাম্পেইন খুব ভালোভাবেই সফল হয়েছে। অবিশ্বাস্য এই সফলতা। নীতি নির্ধারণী আলোচনার ক্ষেত্রটিতে স্যান্ডার্স একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পেরেছেন। কয়েক বছর আগেও নীতি নির্ধারণী আলোচনাগুলিতে যেসব বিষয় অনুচ্চার্য ছিল সেগুলিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যেমন ধরুন দি গ্রীন নিউ ডিল, বেঁচে থাকলে চাইলে তো এটি আপনার লাগবেই।”

( সম্পদানায় জোরান র্যাডোসাভল্যেভিক )

সূত্র: www.euractiv.com

 ----------------------------------------------------------------------------------

 সাক্ষাৎকারের বাকী অংশ এবং এরকম আরও অনেকগুলো লেখা পাওয়া যাবে ২০২১, মার্চ এপ্রিলের বইমেলায় চারদিক  প্রকাশিত জনাব মেসবাহউদ্দীন আহমেদ সম্পাদিত " একুশ শতকের অতিমারি আগ্রাসন" বইটিতে। 



 

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

~ বরাহশোদনে - বিস্ট্যালিটি ~

হে ছোট শূকর জেনো তোমায় খেতে মানা, মারতে মানা নেই সেই মহাজাগতিক মের্সেনারি তাই একশো বছর পথ হেটে এসেছে একেলা ডেসপারেট দুপুর রাত্রে পালিয়ে সে ভ...